নাটোর সদর উপজেলার বাসিন্দা শামিম আহমেদ পরিবারকে সচ্ছল করার আশায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয় করে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যান। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। পাসপোর্ট ও ভিসাবিহীন অবস্থায় সেখানে ধরা পড়ে চলতি বছরের ১৪ জুন থেকে তিনি কারাভোগ করছেন। শামিমের স্ত্রী সালমা বেগম জানান, তাঁর স্বামীর কোনো খোঁজখবর নেই। ঋণ করে বিদেশে পাঠানো হলেও এখন তাঁরা চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুসন ইসমাইলের তথ্যমতে, দেশটিতে বর্তমানে ১ হাজার ১৩৬ জন বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসী হিসেবে কারাগারে রয়েছেন। তিনি জানান, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী অভিবাসন ডিপোতে মোট ১৮ হাজার অবৈধ অভিবাসী আটক আছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১০.৪ শতাংশ শিশু, ৭৮ শতাংশ পুরুষ ও ২২ শতাংশ নারী। জাতীয়তার ভিত্তিতে মিয়ানমারের নাগরিক সর্বাধিক, এরপর ফিলিপিনো, ইন্দোনেশীয় এবং চতুর্থ স্থানে বাংলাদেশিরা।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচির মানিক কুমার সরকারের অভিজ্ঞতাও একই রকম। ২০১৪ সালে মালয়েশিয়া গিয়ে পাসপোর্ট আটকে যাওয়ায় তিনি অবৈধ হয়ে পড়েন এবং ইমিগ্রেশনের অভিযানে ধরা পড়ে ২০২৩ সালের মার্চে দেশে ফেরেন। তিনি জানান, জেলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকা-খাওয়ার কষ্টের পাশাপাশি ফেরার বিমানের টিকিট কিনতে দ্বিগুণ-তিন গুণ দাম গুনতে হয়েছে।
আরও
মালয়েশিয়ায় থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা অবৈধদের বৈধতা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। গত শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তাঁরা দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। চিঠিতে পাসপোর্ট নবায়ন সহজকরণ, বন্দি প্রবাসীদের তালিকা প্রণয়ন ও দেশে ফেরত আনা, সিন্ডিকেটমুক্ত শ্রমিক প্রেরণ, প্রবাসী পরিবারের সুরক্ষা, চিকিৎসা ব্যয়ে ছাড়, এবং হাইকমিশনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মতো দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
সমন্বয়ক মোকাম্মেল হোসেন বলেন, পাসপোর্ট নবায়নের জটিলতা ও দালালচক্রের কারণে অনেকেই অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করছেন, যা ইমিগ্রেশনের নিয়মিত অভিযানের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে এসব প্রবাসীকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।









