পানি মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও ভারতের মহারাষ্ট্রের দেঙ্গানমাল গ্রামে সেটাই সবচেয়ে দুর্লভ সম্পদে পরিণত হয়েছে। ভয়াবহ এই পানিসংকটের কারণে গ্রামটির পুরুষরা একের পর এক বিয়ে করছেন—প্রধানত পানি আনার জন্য। বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হলেও স্থানীয়রা বলছেন, তাদের জন্য এটি এখন এক ধরনের বাস্তবতা।
জিও নিউজ উর্দুর প্রতিবেদনে জানা যায়, গ্রামের একমাত্র সুপেয় পানির উৎস হলো বহু দূরে অবস্থিত একটি কুয়া। প্রতিদিন সেই কুয়া থেকে পানি আনতে নারীদের প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লাগে। প্রচণ্ড রোদে গর্ভবতী বা অসুস্থ নারীদের পক্ষে এ কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে এক স্ত্রীর পক্ষে সংসার সামলানো ও পানি আনা একসাথে করা কঠিন হয়ে পড়ে, তখন পুরুষেরা দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
এই অতিরিক্ত বিবাহে জড়ানো অধিকাংশ নারীই সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির। তারা জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যূনতম সম্মানের আশায় এমন বিয়েতে রাজি হন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এসব স্ত্রীদের সন্তান নিতে নিষেধ করা হয় এবং স্বামীর সম্পত্তিতে কোনো অধিকার দেওয়া হয় না।
আরও
এক নারী জানান, বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, বাড়িতে পানির অভাব। স্বামী তাকে বলেন, আরও একটি বিয়ে করলে সমস্যা সমাধান হবে। তার সম্মতির পরও সমাধান না হওয়ায় স্বামী আবার তৃতীয় বিয়ে করেন। তবে ওই স্বামী দাবি করেন, তিনি তিন স্ত্রীকেই সমানভাবে ভালোবাসেন ও যত্ন নেন।
উল্লেখ্য, হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী এবং ভারতের আইনে একাধিক বিয়ে অবৈধ। কিন্তু দেঙ্গানমালের বাস্তবতায় সেই আইন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে, আর পানির অভাব সেখানে সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে অদ্ভুত রূপ নিয়েছে।










