মিয়ানমারে দুটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাতের ফলে গত চার দিনে প্রায় ৪,০০০ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রাজ্যটির প্রশাসন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শরণার্থীরা মূলত চিন জাতিগোষ্ঠীর এবং তারা দীর্ঘ বনাঞ্চল পাড়ি দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন।
মিজোরামের স্বরাষ্ট্র সচিব ভানলালমাউইয়া জানিয়েছেন, শরণার্থীদের মধ্যে অনেকে ভারতে বসবাসরত আত্মীয়দের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন, আর বাকিদের অস্থায়ীভাবে কমিউনিটি সেন্টারে রাখা হয়েছে। এর আগে রাজ্যটিতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। ২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশটিতে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
রাজ্য পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করা শরণার্থীর সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে। মিয়ানমারের চিন রাজ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে লড়াই মূলত ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে, যারা উভয়েই সামরিক সরকারের বিরোধিতা করছে।
আরও
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, সীমান্তের ওপারে এখনো যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, যার ফলে শরণার্থীদের দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। ভারত সরকারও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত চীনের প্রভাব মোকাবিলায় মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী। এই কারণে দেশটিতে সামরিক শাসন আরোপের বিষয়টি নিয়ে এখনো সরকারিভাবে কোনো নিন্দা প্রকাশ করেনি দিল্লি।












