যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে শীতকালীন ঝড়ে বহু মানুষ মারা গেছে এবং ঝড়ের কারণে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল কিংবা বিলম্বিত হয়েছে। এর মধ্যেই এবার দেশটির দিকে ধেয়ে আসছে ভয়াবহ তুষারঝড়, যাকে আবহাওয়াবিদরা শক্তিশালী ‘বোম্ব সাইক্লোন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে এই ঝড় আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে অস্বাভাবিক মাত্রার তুষারপাত, হারিকেন-গতির ঝোড়ো হাওয়া এবং উপকূলীয় এলাকায় বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ভার্জিনিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে এসব এলাকায় তীব্র তুষারপাতের পাশাপাশি দমকা হাওয়া পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। এছাড়া সাউথ ক্যারোলাইনা, জর্জিয়া এবং নিউ ইংল্যান্ডের উপকূলীয় এলাকাতেও বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে নর্থ ক্যারোলাইনার উপকূলের কাছে এই ঝড়ের উৎপত্তি হতে পারে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এটি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে উত্তরমুখী অগ্রসর হবে, যাকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় ‘বোম্বোজেনেসিস’ বলা হয়। এর ফলে প্রচণ্ড ঠান্ডা বাতাস দক্ষিণে নেমে আসবে এবং এমন সব অঞ্চলেও তুষারপাত ঘটতে পারে, যেখানে সাধারণত শীতকালেও এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না।


বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩৭টি অঙ্গরাজ্যে আবহাওয়া সতর্কতা জারি রয়েছে। জর্জিয়ার উত্তরাংশ, ক্যারোলাইনা অঞ্চল এবং দক্ষিণ ভার্জিনিয়ার প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ সরাসরি তুষারঝড়ের সতর্কতার আওতায় রয়েছে। নর্থ ও সাউথ ক্যারোলাইনার বহু এলাকায় ৫ থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষার জমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এমনকি আটলান্টার মতো শহরেও, যেখানে তুষারপাত অত্যন্ত বিরল, সেখানে অস্বাভাবিক ঠান্ডা ও তুষারের কারণে বড় ধরনের দুর্ভোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ভয়াবহ আবহাওয়ার ফলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা, সড়ক ও বিমান চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত এবং জনজীবনে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।












