যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা এয়ারলাইনসের এক অফ-ডিউটি পাইলট জোসেফ এমারসনকে মাঝ আকাশে বিমান ক্র্যাশ করানোর চেষ্টা করার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। তিনি ককপিটের জাম্প সিটে বসে থাকা অবস্থায় হঠাৎ বিমানের ছাদের প্যানেলে থাকা জরুরি ইঞ্জিন শাট-অফ হ্যান্ডেলের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেটি টানতে চেষ্টা করেন। এতে মুহূর্তের জন্য ৮৩ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে, যা সম্প্রতি প্রকাশিত ককপিট অডিওর মাধ্যমে আবার আলোচনায় উঠে আসে।
ককপিট অডিওতে শোনা যায়, কী ঘটছে জানতে চাইলে এমারসন পাইলটকে জানান, তিনি “বাড়ি যেতে চান”। এরপরই সংঘর্ষের শব্দ এবং পাইলটদের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ কথোপকথন ধরা পড়ে। বিপজ্জনক পরিস্থিতি বুঝে ডিউটিতে থাকা পাইলট দ্রুত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জরুরি অবতরণের অনুরোধ করেন, জানিয়ে দেন যে জাম্প সিটে থাকা পাইলট ইঞ্জিন বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন।
জরুরি অবতরণের পর এমারসনকে হাতকড়া পরিয়ে বিমান থেকে বের করে নিয়ে যায় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঘটনার দুই দিন আগে গ্রহণ করা তথাকথিত “ম্যাজিক মাশরুম” বা সাইকেডেলিক ড্রাগের প্রভাবে তিনি ঘোরের মধ্যে ছিলেন এবং ভুলবশত হ্যান্ডেল টেনে ইঞ্জিন বন্ধ করতে যান। তার দাবি—তার মনে হচ্ছিল হ্যান্ডেল টানলে তার ঘুম ভেঙে যাবে।
আরও
মার্কিন আদালতে এমারসন ফ্লাইট ক্রুকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেন। দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে তাকে তিন বছরের সুপারভিশনসহ মুক্তি দেওয়া হয়। অন্যান্য ফেডারেল অভিযোগে তাকে পাঁচ বছরের প্রবেশন এবং পূর্বে ভোগ করা আটকের সময়কে শাস্তি হিসেবে গণনা করা হয়েছে।
এই ঘটনা বিমান নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষত পাইলটদের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর তদারকির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল।











