জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুবিধা—যা দীর্ঘদিন ধরে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নামে পরিচিত—সে পথ এখন কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করা হলে আবেদন সরাসরি বাতিল হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) এক্স (পূর্বে টুইটার) প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত দূতাবাসের বার্তায় এই কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়।
দূতাবাস জানায়, ভ্রমণ বা অতিথি ভিসার জন্য আবেদনকারী সম্পর্কে যদি কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ধারণা হয় যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্মদানের পরিকল্পনা করছেন, তাহলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। এর ফলে বিশেষ উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব আদায়ের যে প্রবণতা ছিল, তা কার্যত বন্ধ হচ্ছে।
মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমি, জলসীমা বা আকাশসীমায় জন্ম নিলে শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পায়। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে কার্যকর এই নিয়মই বার্থ ট্যুরিজমকে বৈধ কাঠামো দিয়েছে। তবে ২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক উদ্যোগ নেন এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রাপ্তির ধারা বাতিলের লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
আরও
এ নির্বাহী আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে, যেখানে শুনানির জন্য আদালত ইতোমধ্যে সম্মতি জানিয়েছে। আদালত ট্রাম্পের পক্ষে রায় দিলে ১২৫ বছরের পুরোনো নাগরিকত্ব নীতি মূলত নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হবে—যা অভিবাসন নীতি ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে।
কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে ট্রাম্প সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া অসংখ্য মানুষের ‘দায়িত্ব বহন’ করতে পারে না। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলেও যেসব ব্যক্তি ইতোমধ্যে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে।











