বিদেশি শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং আইনি সহায়তা নিয়ে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন এমন অভিবাসীদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। আগে এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট (ইএডি) বা কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর; নতুন নীতিমালায় তা কমিয়ে মাত্র ১৮ মাস করা হয়েছে। ফলে অভিবাসীদের এখন আরও ঘনঘন এই নথি নবায়ন করতে হবে।
সিদ্ধান্তটি এমন সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে প্রবেশ করা একজন আফগান নাগরিকের গুলিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্য নিহত হন। ঘটনার পর কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ১৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন কার্যক্রম স্থগিত করে। এরপরই নতুন ওয়ার্ক পারমিট নীতি কার্যকর করা হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা জোরদারের অংশ বলেই উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ কমানোর বিষয়ে ইউএসসিআইএস পরিচালক জোসেফ এডলোভ জানান, ঘনঘন মেয়াদ যাচাইয়ের মাধ্যমে জননিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি অনুমতির কারণে আগের নীতিতে কিছু ব্যক্তি ক্ষতিকর মতাদর্শ ছড়ানোর বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে—অভিবাসীদের নথি যাচাই আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
আরও
এডলোভ আরও বলেন, হামলাকারীকে আগের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল, যা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তাই নতুন নীতিতে ঘনঘন ব্যাকগ্রাউন্ড চেক নিশ্চিত করা হবে, যাতে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি আগেভাগেই শনাক্ত করা যায়।
২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থার ঘোষণা দেন। তিনি নির্বাহী আদেশে দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেন। পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াও কঠোর করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত পদক্ষেপ হলো এইচ–১বি ভিসার ফি ১ হাজার ৫০০ ডলার থেকে হঠাৎ বৃদ্ধি করে ১ লাখ ডলার নির্ধারণ—যা বিশ্বজুড়ে আইটি পেশাজীবী, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।












