জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় আগামী বছর থেকে নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এপ্রিল থেকে ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী শ্রমিকদের জন্য ন্যাশনাল লিভিং ওয়েজ ঘণ্টায় ১,৯২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০৩৯ টাকা করা হবে। এতে পূর্ণকালীন কর্মীদের বার্ষিক আয় গড়ে প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকার বেশি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১,৭৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্ক কর্মীদের মধ্যে মজুরি বৈষম্য কমানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৬–১৭ বছর বয়সী ও শিক্ষানবিশদের মজুরিও ৬ শতাংশ বাড়িয়ে ঘণ্টায় ১,২৮৩ টাকা করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যেড় অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় এখন সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। তাই কম আয়ের কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ন্যূনতম ও লিভিং ওয়েজ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে কিছু নীতিনির্ধারক সতর্ক করে বলেছেন, তরুণদের জন্য চাকরির সুযোগ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, কারণ ১৬–২৪ বছর বয়সী বেকার যুবকের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৯ লাখ ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে।
আরও
যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশ বলছে, ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স বৃদ্ধির পাশাপাশি ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। গত পাঁচ বছরে ন্যূনতম মজুরি প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে—যা বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বৃদ্ধির হার—কিন্তু গড় বেতন একই অনুপাতে বাড়েনি।
অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলো এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। টিইইউসি মহাসচিব পল নওয়াক বলেন, উচ্চ মজুরি শুধু কর্মীদের জীবনমানই উন্নত করবে না, এটি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে রেজোলিউশন ফাউন্ডেশন মনে করছে, তরুণদের মজুরি অতিরিক্ত হারে বাড়ানো হলে নিয়োগ কমে যেতে পারে এবং এ বিষয়ে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে।












