যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মূলধারার রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য ও জনপ্রিয়তা ধরে রেখে বাজিমাত করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা। সর্বশেষ নির্বাচনি ফলাফল অনুযায়ী, জর্জিয়া স্টেট সিনেটে কিশোরগঞ্জের সন্তান শেখ রহমান, কানেকটিকাট স্টেট সিনেটে চাঁদপুরের এমডি মাসুদুর রহমান এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের আইনসভায় পিরোজপুরের আবুল খান পুনর্নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশিদের জন্য এক অনন্য গর্বের ইতিহাস রচনা করেছেন। মার্কিন রাজনীতির মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চে তাদের এই ধারাবাহিক জয় প্রবাসে বাংলাদেশিদের শক্তিশালী অবস্থানেরই প্রমাণ দেয়।
জর্জিয়ার স্টেট সিনেটের ৫ নম্বর আসনে ডেমোক্রেটিক দলের হয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টানা পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন শেখ রহমান। সাধারণ নির্বাচনে তার বিপক্ষে কোনো প্রার্থী না থাকায় তাকে ভোটের কঠিন লড়াইয়ে নামতে হয়নি। প্রাথমিক ফলাফলে তার ঝুলিতে ৩৫ হাজার ১০১ ভোট দেখানো হয়েছে। এর আগে, গত ১৯ মে দলের প্রাথমিক নির্বাচনে তিনি ৬ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়ে রবিন ম্যাককয়কে পরাজিত করে চূড়ান্ত মনোনয়ন নিশ্চিত করেছিলেন। ২০১৮ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। জর্জিয়ার প্রথম মুসলিম ও এশীয় বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর হিসেবে তিনি আগেই ইতিহাস গড়েছিলেন, আর এবারের জয় তার সেই রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করল।
অন্যদিকে, কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটের ৪ নম্বর আসনেও ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে জয় নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমডি মাসুদুর রহমান। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী জেন জেনিংসকে হারিয়ে এই আসনটি ধরে রেখেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিটি ইনসাইডারের প্রাথমিক ফলাফলে তার এই জয়ের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে জন্ম নেওয়া মাসুদুর রহমান ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন এবং এবারের বিজয়ের মাধ্যমে তিনি তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিলেন।
আরও
এছাড়াও, নিউ হ্যাম্পশায়ারের আইনসভায় রকিংহাম ৩০ আসনে রিপাবলিকান দলের টিকিট নিয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন পিরোজপুরের সন্তান আবুল খান। এই নির্দিষ্ট আসনে মূলত দুটি পদে প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। প্রাথমিক ভোট গণনায় আবুল খান ১ হাজার ৮৭৩ ভোট পেয়ে শীর্ষে থেকে নিজের বিজয় নিশ্চিত করেন। একই আসন থেকে আরেক রিপাবলিকান প্রার্থী জেসন জ্যানভ্রিনও নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১২ সাল থেকে মার্কিন নির্বাচনি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা আবুল খান এর আগে টানা ছয় মেয়াদে আইনসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার এই জয় তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নতুন পালক যুক্ত করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোট পাঁচজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে এই তিনজনের পাশাপাশি নাবিলা ইসলাম পার্কস ও নূরুন নবীও ছিলেন। তবে ২০২৬ সালের এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে শেষোক্ত দুজনের প্রার্থিতার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বিধায় তাদের এবারের নির্বাচনি ফলের তালিকায় রাখা হয়নি।









