বাবার মৃত্যুর পর তিন বছর ধরে পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত ছিল পাঁচ বছরের শিশু রায়হান। তবে মায়ের নতুন বিয়েতে শুধু এক বিদেশি বাবাই নয়, শিশুটি পেল ইউরোপে পাড়ি জমানোর এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ঠিকানা। জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের শান্তিনা জাহান সিমির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ফিনল্যান্ডের নাগরিক সিমোলা মিকা। তিন বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর দিশেহারা সিমিকে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখান এই ফিনিশ যুবক। প্রবাসী এক আত্মীয়ের মাধ্যমে পরিচয়ের পর গড়ে ওঠা প্রেমের পরিণতি দিতে গত ২ অক্টোবর বাংলাদেশে ছুটে আসেন তিনি।
দেশে আসার পর জামালপুর জজ কোর্টে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মিকা নিজের নতুন নাম রাখেন মিকাইল। এরপর দুই পরিবারের সম্মতিতে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। আগামী ১৮ অক্টোবর মিকাইল ফিনল্যান্ডে ফিরে যাবেন এবং স্ত্রী-সন্তানকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভিসার প্রক্রিয়া শুরু করবেন। নতুন জীবন পেয়ে উচ্ছ্বসিত সিমি জানান, মিকাইল তার ছেলেকে নিজের সন্তানের মতোই আপন করে নিয়েছেন। মনের ভালোবাসার কাছে ভাষার ভিন্নতা কোনো বাধা হতে পারেনি বলে মনে করেন তিনি।
বিদেশি বরের আগমনে দৌলতপুর গ্রামে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। এতিম শিশুটির পিতৃপরিচয় পাওয়া এবং বিদেশিকে বিয়ে করার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এলাকার মানুষ নবদম্পতির জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন। সিমির বাবা রফিকুল ইসলামও মেয়ের জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে ভীষণ খুশি ও তৃপ্ত।








