সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন সৌদি নাগরিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চালানো এই অতর্কিত হামলায় বিভিন্ন দেশের আরও কয়েকজন নাগরিক আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথি বিদ্রোহীরা দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে এই হামলা চালানোর দাবি করেছে। তবে সৌদি আরবের সরকারি বিবৃতিতে সরাসরি কোনো গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম হামলাটি সরাসরি বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থা ‘সৌদিয়া’র একটি বিমান। এই হামলায় বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আহত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হামলার পরপরই তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ঠিক কতজন আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানানো হয়নি।
হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে কিং খালিদ বিমানবন্দরে বেশ কয়েক ঘণ্টা উড়োজাহাজ ওঠানামা ও ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পর কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র পেয়ে বর্তমানে আকাশপথে বিমান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট লড়াই করে আসছে। এর জেরে প্রায়ই হুথি বিদ্রোহীরা সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দরে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ বিমানবন্দরের এই জোড়া হামলা দীর্ঘস্থায়ী সেই সামরিক উত্তেজনারই এক নতুন ও মারাত্মক বহিঃপ্রকাশ।








