সর্বশেষ

মুসল্লিদের ৮ লাখ টাকা নিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ উধাও ইমাম

Imam 588dc4Web Popup (3)

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় ব্যক্তিগত সংকট ও স্বর্ণের হার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মুসল্লিদের কাছ থেকে প্রায় আট লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এক মসজিদের ইমাম উধাও হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম মিজানুর রহমান। তিনি উপজেলার মালঞ্চ জামে মসজিদে পেশ ইমাম ও খতিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মসজিদে দেওয়া পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর স্থায়ী ঠিকানা কুমিল্লার লাকসাম এবং বর্তমান ঠিকানা ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে। টাকা নেওয়ার পর স্ত্রী-সন্তানসহ তিনি আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় ভুক্তভোগীরা বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে মেলান্দহ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে মালঞ্চ জামে মসজিদে যোগ দেওয়ার পর খুব অল্প সময়েই মুসল্লিদের আস্থা অর্জন করেন মিজানুর রহমান। এই আস্থার সুযোগ নিয়ে তিনি বেতন না পাওয়া ও জরুরি আর্থিক সংকটের কথা বলে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার নেন। মুঠোফোনে হংকং থেকে আসা একটি স্বর্ণের নেকলেসের ছবি দেখিয়ে দ্রুত টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে তিনি জুবায়ের নামের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দেড় লাখ, ব্যবসায়ী ইমরানের কাছ থেকে সোয়া এক লাখ, জাহাঙ্গীর মাস্টারের কাছ থেকে ৪০ হাজার, আব্দুল্লাহর কাছ থেকে ২ লাখ এবং ইসমাঈল হোসেন রাজার কাছ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ মোট ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।

গত বুধবার দুপুর পর্যন্ত ওই ইমাম স্বাভাবিকভাবেই মসজিদে নামাজ পড়িয়েছেন। এরপর থেকেই তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং তিনি সপরিবারে আত্মগোপন করেছেন। এদিকে প্রতারণার শিকার হয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোবাইল ব্যাংকিং ও ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ী জুবায়ের। নিজের ব্যবসার মূলধনের বড় একটি অংশ ইমামের হাতে তুলে দিয়ে এখন তিনি চরম দিশেহারা। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, মসজিদের ইমাম মানুষের সবচেয়ে বড় বিশ্বাসের জায়গা। তাঁকে বিশ্বাস করে কষ্টের জমানো টাকা দিয়ে এখন তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে মালঞ্চ জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন জানান, অর্থ লেনদেনের বিষয়টি সম্পর্কে কমিটি আগে থেকে কিছুই জানত না। তিন মাস আগে নিয়োগ পাওয়া একজন ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সবার আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই কমিটির সভা আহ্বান করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং পলাতক ইমামের মুঠোফোন নম্বর পর্যালোচনা করে তাঁকে আইনের আওতায় আনার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup