যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। টিম অ্যান্ড্রুস নামের ৬৬ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিকের শরীরে জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যা রেকর্ড ২৭১ দিন পর্যন্ত তাঁর শরীরে কার্যকর ছিল। চিকিৎসকেরা বলছেন, মানব অঙ্গ পাওয়ার আগপর্যন্ত সংকটাপন্ন রোগীদের জীবন বাঁচাতে শূকরের অঙ্গ বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের যে সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছিল, এই যুগান্তকারী ঘটনা তাকে আরও জোরালো ও বাস্তবসম্মত করেছে।

দীর্ঘদিন টাইপ ২ ডায়াবেটিসে ভুগে টিম অ্যান্ড্রুসের কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে কিডনি প্রতিস্থাপনের দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকার কারণে মানব কিডনি পেতে তাঁকে অন্তত সাত বছর অপেক্ষা করতে হতো। অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডায়ালিসিসে থাকা রোগীদের গড় আয়ু থাকে সাধারণত পাঁচ বছরের মতো। এমন চরম হতাশাজনক পরিস্থিতিতে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের এই সাহসী পদক্ষেপ তাঁকে ডায়ালিসিস মেশিনের ওপর নির্ভরতা থেকে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি নতুন করে বাঁচার আলো দেখায়।
আরও
মানবদেহ সাধারণত অন্য প্রাণীর অঙ্গ তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে। এই জটিলতা এড়াতে বিজ্ঞানীরা ‘জেনোট্রান্সপ্ল্যান্টেশন’ নামের এক বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির আশ্রয় নেন। তাঁরা ‘ইউকাটান’ প্রজাতির ক্ষুদ্রাকৃতির শূকরের জিনে ৬৯টি পরিবর্তন আনেন এবং সেখানে মানব ডিএনএ যুক্ত করেন। এর ফলে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ওই কিডনিটিকে স্বাভাবিক অঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি, শূকরের ডিএনএ-তে থাকা ক্ষতিকর ভাইরাসগুলোও পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়, যাতে রোগীর শরীরে নতুন করে কোনো সংক্রমণের ঝুঁকি না থাকে।


প্রখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিস্থাপনের পর কিডনিটি তাৎক্ষণিকভাবে চমৎকার কাজ শুরু করলেও প্রায় ছয় মাস পর এর রক্তনালিতে প্রদাহ দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত ২৭১ দিন পর কিডনিটি অকার্যকর হয়ে পড়লে সেটি শরীর থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর অ্যান্ড্রুসকে ৮২ দিন পুনরায় ডায়ালিসিস নিতে হলেও আশার কথা হলো, শেষমেশ তিনি একজন মানব দাতার কাছ থেকে সুস্থ কিডনি পেয়েছেন এবং সেটি বর্তমানে ভালোভাবে কাজ করছে। ম্যাস জেনারেল ব্রিগহামের চিকিৎসক লিওনার্দো রিয়েলা আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের যে তীব্র সংকট চলছে, আগামী দিনে জেনোট্রান্সপ্ল্যান্টেশন তার এক যুগান্তকারী সমাধান হয়ে উঠতে পারে।








