প্রতিবেশীদের ব্যক্তিগত জীবনের খুঁটিনাটি, প্রেমের সম্পর্ক, দাম্পত্য কলহ কিংবা পরকীয়ার খবর—এসবই তার ব্যবসার মূল পুঁজি। কলম্বিয়ার কুইন্দিও বিভাগের আর্মেনিয়া শহরের ৬৭ বছর বয়সী মিরিয়াম পেশায় একজন ‘গসিপ বিক্রেতা’ বা পরচর্চাকারী। স্প্যানিশ ভাষায় নিজেকে ‘চিসমোসা’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই নারী পাড়া-প্রতিবেশীদের হাঁড়ির খবর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং তা আগ্রহীদের কাছে বিক্রি করেন। শুনতে অবাক লাগলেও, মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের এসব তথ্য বিক্রি করেই তিনি ইতিমধ্যে নিজের উপার্জনে দুটি বাড়ি কিনেছেন। সম্প্রতি কনটেন্ট নির্মাতা লেডি দানিয়েলার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই অভিনব পেশার কথা তুলে ধরেন তিনি, যা পরে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলে।
তথ্য সংগ্রহের জন্য মিরিয়াম দিনের বেশির ভাগ সময় বাড়ির বাইরে কাটান এবং চারপাশের সব ঘটনার ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন। সংগৃহীত তথ্য নির্ভুল রাখতে তিনি একটি ডায়েরি ব্যবহার করেন। এমনকি নিজের বাড়িতে একটি বিশেষ বোর্ডও তৈরি করেছেন তিনি, যেখানে প্রতিবেশীদের ছবি ও ঘটনার বিবরণ যত্নসহকারে পিন করে রাখা হয়। খবরের ধরন ও গুরুত্বের ওপর ভিত্তি করে মিরিয়ামের পারিশ্রমিক নির্ধারিত হয়। সাধারণ খবরের জন্য কয়েক হাজার কলম্বিয়ান পেসো নিলেও, সংবেদনশীল তথ্যের ক্ষেত্রে অঙ্কটা বেশ বড় হয়। উদাহরণস্বরূপ, এক ব্যক্তির পরকীয়ার খবর গোপন রাখার শর্তে তিনি তার কাছ থেকে ৭ লাখ পেসো আদায় করেছিলেন বলে সাক্ষাৎকারে জানান।
মিরিয়ামের স্পষ্ট দাবি, তিনি কখনো যথাযথ প্রমাণ ছাড়া কোনো মুখরোচক তথ্য ছড়ান না। পাড়ার প্রতিটি বাড়ির নাড়িনক্ষত্র জানার কারণে স্থানীয়দের কাছে তিনি রীতিমতো ‘গসিপের রানি’ খেতাব পেয়েছেন। তবে তার এই কাজ নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। অনেকেই ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যদিও মিরিয়ামের ভাষ্যমতে, যারা তার সমালোচনা করেন, পাড়ার ভেতরের খবর জানতে দিন শেষে তারাই আবার তার কাছে ছুটে আসেন। দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য সংগ্রহের এই কাজ করে আসায় তিনি নিজেকে এই অদ্ভুত পেশার একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি বলেই মনে করেন।












