লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার তরুণ প্রবাসী শুভ দাসের (২৩) মরদেহ দীর্ঘ ৩ মাস ২৫ দিন পর কফিনবন্দী হয়ে অবশেষে দেশে পৌঁছেছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কলারোয়া উপজেলার কয়লা ইউনিয়নের শ্রীপতিপুর গ্রামে তাঁর নিথর দেহ পৌঁছালে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। ভাগ্য বদলের বুকভরা আশা নিয়ে সুদূর মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমানো এই তরুণের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারটির পাশাপাশি পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গত ১২ মে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়েহ জেলার জেবদিন এলাকায় একটি রুটি বহনকারী গাড়িতে ইসরায়েলি বাহিনীর ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলেই তিন বাংলাদেশি কর্মী প্রাণ হারান। নিহত অপর দুজন হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শফিকুল ইসলাম ও আশাশুনি উপজেলার নাহিদুল ইসলাম। গত ২৭ জুন ওই দুজনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও নানা প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় শুভ দাসের মরদেহ ফেরা নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে সব প্রক্রিয়া শেষে প্রায় চার মাসের কাছাকাছি সময় পর এই রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ তাঁর নিজ মাতৃভূমিতে পৌঁছাল।
নিহতের স্বজনেরা জানান, দরিদ্র ভ্যানচালক সুরঞ্জন দাস ও ধানচাতাল শ্রমিক শিখা দাসের মেজো ছেলে শুভ ছিলেন চার ভাইবোনের মধ্যে পরিবারের সবচেয়ে বড় অবলম্বন। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে এবং মা-বাবার হাড়ভাঙা খাটুনি ঘোচাতে প্রায় তিন বছর আগে জমি ও গবাদিপশু বিক্রির পাশাপাশি ধারদেনা করে তাঁকে লেবাননে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননে ইসরায়েলি হামলা তাঁদের ভাগ্য বদলের সেই স্বপ্নকে চিরতরে কেড়ে নিয়েছে।
আরও
উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারটি এখন ঋণের বোঝা আর শোকের ভারে পুরোপুরি দিশাহারা হয়ে পড়েছে। তবে সরকারি সহায়তার বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাশ বহনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিহত হওয়ার কারণে পরিবারটিকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।










