মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় চলন্ত ট্রেন থেকে দুর্বৃত্তদের ধাক্কায় পড়ে যাওয়া ১১ বছর বয়সী এক পানিবিক্রেতা শিশুকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ছকাপন এলাকায় এই অমানবিক ঘটনার পর অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন খোকন চৌধুরী (৪৮) নামের ওই ব্যক্তি। গুরুতর আহত শিশুটির পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ওই শিশুটি ট্রেনে পানির বোতল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। ঘটনার দিন কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার উপার্জিত সব টাকাপয়সা ছিনিয়ে নিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে তাকে নির্মমভাবে নিচে ফেলে দেয়। রেললাইন ধরে হাঁটার সময় শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান খোকন চৌধুরী। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিশুটি সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মীদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আনিকা কাসেম জানান, শিশুটির ঘাড়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম রয়েছে। বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ আঘাতের আশঙ্কায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, শিশুটিকে উদ্ধারকারী খোকন চৌধুরী চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানার তেঁতুয়া গ্রামের বাসিন্দা। একসময় তিনি পেশায় পল্লিচিকিৎসক ছিলেন। কুলাউড়া রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অমর চন্দ্র বিশ্বাস জানান, মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই নিখোঁজ ছিলেন খোকন। নিজে অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও সারা রাত হাসপাতালে ওই আহত শিশুটির শয্যাপাশে বসে থেকে তিনি যে নিখাদ ভালোবাসার পরিচয় দিয়েছেন, তা সবাইকে মুগ্ধ করেছে। খবর পেয়ে তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে নিতে স্বজনেরা ইতিমধ্যে কুলাউড়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। অন্যদিকে, রেলওয়ে পুলিশ ও সমাজসেবা অধিদপ্তর আহত শিশুটির পরিবার ও প্রকৃত পরিচয় শনাক্তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।










