Long Popup (2)
সর্বশেষ

নেপালে ছেলের খোঁজে ১৬০০ টাকা ধার করে দিনের পর দিন হাঁটছেন বাবা

Nepal father 6a98059a08d29.jkkjpgCity

নেপালের সাম্প্রতিক প্রলয়ংকরী পাহাড়ি ঢল ও হড়পা বানে নিখোঁজ হাজারো মানুষের সন্ধানে চলছে উদ্ধারকাজ। এই ধ্বংসস্তূপের মাঝেই একমাত্র নিখোঁজ সন্তানকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব পিতা তালকা সাদা। দক্ষিণ তরাই অঞ্চলের প্রান্তিক জেলা সপ্তরীর চরম সুবিধাবঞ্চিত ‘মুসাহার’ সম্প্রদায়ের এই মানুষটির সম্বল বলতে চড়া সুদে ধার করা মাত্র ১৬০০ টাকা। পাহাড়ি কাদামাখা দুর্গম পথ ধরে মাইলের পর মাইল হেঁটে তিনি তাঁর ১৯ বছর বয়সী ছেলে বিনোদ সাদাকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন। চরম দারিদ্র্য ও প্রকৃতির রুদ্ররোষের শিকার এই পিতার আর্তনাদ এখন নাড়িয়ে দিচ্ছে মানুষের বিবেককে।

জানা যায়, এক মাস আগে উত্তরাঞ্চলীয় রসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন বিনোদ। গত ২৬ আগস্ট ভোটেকোশি নদীতে নেমে আসা তীব্র পাহাড়ি ঢলে ওই প্রকল্পসহ পুরো এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এরপর থেকেই বিনোদসহ আরও চারজন তরুণ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। ছেলের নিখোঁজের খবর পেয়ে ঘরে বসে থাকতে পারেননি তালকা সাদা। প্রতি ১০০ টাকায় ২০ টাকা সুদের শর্তে সামান্য কিছু টাকা ধার করে ভাইয়ের সঙ্গে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হন তিনি। গায়ে ময়লা পলিথিনের রেইনকোট আর পিঠে পুরোনো ব্যাকপ্যাক ঝুলিয়ে কাঠমান্ডুর একের পর এক হাসপাতালের মর্গ ও ট্রমা সেন্টারে ঘুরেছেন তাঁরা। কিন্তু উদ্ধার হওয়া বহু মরদেহের বিকৃত অবস্থার কারণে বিনোদের কোনো খোঁজ মেলেনি। সেখান থেকে ভাঙাচোরা কর্দমাক্ত পথ ধরে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের বিধ্বস্ত পাহাড়ি শহর নুয়াকোটের ত্রিশূলী পর্যন্ত হেঁটেছেন এই হতভাগ্য পিতা।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, সন্তান হারানোর এই তীব্র শোকের মাঝেও প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার শিকার হতে হচ্ছে তাঁকে। তালকা সাদার অভিযোগ, প্রান্তিক মধেসি ও মুসাহার সম্প্রদায়ের হওয়ায় এবং সাবলীলভাবে নেপালি ভাষায় কথা বলতে না পারায় সেনা ক্যাম্প ও সরকারি দপ্তরগুলোতে তাঁদের চরম অবজ্ঞা করা হচ্ছে। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘আমরা গরিব বলে আমাদের মানুষ ভাবা হচ্ছে না। অন্তত ছেলের মৃতদেহ দেখার অধিকারটুকুও কি আমাদের নেই? থানায় ও ক্যাম্পে নাম লিখিয়েছি, কিন্তু কেউ আমাদের ঢুকতে দিচ্ছে না।’

নেপাল কর্তৃপক্ষের অবশ্য দাবি, দুর্যোগের মাত্রা ভয়াবহ হওয়ায় এবং নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়ানোয় উদ্ধারকাজে তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এদিকে পকেটের শেষ সম্বলটুকু ফুরিয়ে আসার উপক্রম হলেও ছেলেকে খুঁজে পাওয়ার আশা ছাড়তে নারাজ এই পিতা। জীবিত কিংবা মৃত—একমাত্র সন্তানকে খুঁজে পাওয়ার শেষ আশায় ক্ষোভ আর গভীর বেদনা বুকে চেপে তিনি আবারও রওনা হয়েছেন পাহাড়ি প্রকল্পের সেই ধ্বংসস্তূপের দিকে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate