বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতি আনতে পুরোপুরি অনলাইন ব্যবস্থা (এফডব্লিউসিএমএস) চালু করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির শিল্প খাত, বিশেষ করে মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারার্স ফেডারেশন (এফএমএম) এবং অ্যাসোসিয়েটেড চাইনিজ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসিসিসিআইএম) এই উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। নতুন এই প্রক্রিয়ায় নিয়োগকর্তাদের আর সরকারি দপ্তরে গিয়ে ম্যানুয়ালি আবেদন জমা দিতে হবে না। শিল্পসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ১৪ দিনের মধ্যে শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনপত্র (এসকেবি) দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা এবং স্বচ্ছ স্ট্যাটাস ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি কৃষি ও নির্মাণ খাতের মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে কর্মী নিয়োগ আরও সহজ করতে সাক্ষাৎকারের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছেন তাঁরা।
মালয়েশিয়ার এই উদ্যোগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকেও বিদেশে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বৈধতা ও বিদেশে কর্মীর চাহিদাসহ পুরো ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে কাজ চলছে। অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা ঠেকাতে সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচারণার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কর্মীদের দক্ষতা নিশ্চিত করতে এখন থেকে বিদেশি নিয়োগকর্তাদের প্রতিনিধিরা সরাসরি বাংলাদেশে এসে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাই করে কর্মী নিয়োগ করতে পারবেন। ইতিমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ছয় হাজার চালক পাঠানোর ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির সফল প্রয়োগ শুরু হয়েছে, যা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদেশে অবস্থানরত কর্মীদের ভোগান্তি কমাতে সরকারি সেবাপ্রাপ্তি আরও সহজ করার উদ্যোগও নিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়। প্রবাসীদের পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরাসরি তাঁদের ঠিকানায় পৌঁছে দিতে ডাক বা কুরিয়ার সেবার ব্যবহার নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে, যাতে তাঁদের কষ্ট করে দূরদূরান্ত থেকে দূতাবাসে যেতে না হয়। এ ছাড়া প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় এই কার্ড চালু হলে প্রবাসীরা দেশে ভূমি ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি কাজ ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন। এই সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়েছে।











