লিবিয়া থেকে সাগরপথে অবৈধভাবে গ্রিস যাওয়ার সময় ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভূমধ্যসাগরে ১০ দিন ভাসার পর মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলে উদ্ধার হয়েছেন ২৯ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ২৭ জনের পরিচয় এরই মধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যাদের ২৪ জনই সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। সুস্থ হয়ে ওঠা এই ২৭ বাংলাদেশি বর্তমানে মিসরের স্থানীয় পুলিশের হেফাজতে একটি অস্থায়ী কারাগারে রয়েছেন এবং বাকি দুজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জীবিত উদ্ধার হওয়া এক যাত্রীর বরাতে জানা গেছে, ১০ দিনের এই বিভীষিকাময় যাত্রায় নৌকায় থাকা আরও ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু হলে তাদের মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কেবল সুনামগঞ্জ সদর উপজেলারই ১২ জন রয়েছেন। এ ছাড়া একই জেলার দিরাই, জগন্নাথপুর ও ছাতক এবং হবিগঞ্জ ও সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দারাও এই তালিকায় আছেন। সিলেট বিভাগের বাইরের তিনজনের বাড়ি মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ ও ভৈরবে। এদিকে, উদ্ধার হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের মেহেদি হাসান নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে এবং পরে উপকূল থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহ দুটি বর্তমানে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে মিসরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
আরও
মানবপাচার চক্রের প্রলোভনে পড়ে গত ৩ আগস্ট লিবিয়ার তবুক এলাকা থেকে রওনা হয়েছিল অভিবাসনপ্রত্যাশীদের এই দল। বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, সাগরে নিখোঁজ হওয়া ৯ জনের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য জীবিতদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রও উদ্ধার করেছে পুলিশ। মিসরের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আটক বাংলাদেশিদের দ্রুততম সময়ে দেশে ফেরত পাঠানো এবং নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।











