চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে স্বামী ও স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় ব্রেন স্ট্রোকে স্বামীর মৃত্যুর দুই দিন পর দেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ত্রীর মৃত্যু হয়। স্বামীর অসুস্থতার খবর পেয়ে স্ত্রীও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দর্শনার শ্যামপুর গ্রামের মৃত শওকত আলী মোল্লার ছেলে সফর উদ্দীন (৪৫) সৌদি আরবের আভা শহরে কাজ করতেন। গত ১০ আগস্ট সেখানে কর্মরত অবস্থায় তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। স্থানীয় একটি হাসপাতালের আইসিইউতে টানা কয়েক দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গত ১৮ আগস্ট ভোরে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে, তবে কবে পৌঁছাবে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে স্বামীর স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার খবর শোনার পরপরই ১০ আগস্ট দেশে থাকা স্ত্রী ববিতা খাতুনও (৩৫) ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বামীর মৃত্যুর মাত্র দুই দিন পর ২০ আগস্ট দুপুরে তিনিও মারা যান। আজ শুক্রবার সকালে শ্যামপুর সরকারি কবরস্থানে ববিতা খাতুনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি দর্শনা থানা মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আরও
নিহত সফর উদ্দীনের বড় ভাই শরীফ উদ্দীন দর্শনা পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ও দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক। মৃত্যুকালে এই দম্পতি এক ছেলে, এক মেয়ে ও বৃদ্ধা মাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পরপর স্বামী-স্ত্রীর এমন মর্মান্তিক বিদায়ে পরিবারটিতে এখন শুধুই শোকের মাতম চলছে।









