ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন দ্বীপ বালির কাছে মাঝসমুদ্রে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু হওয়ায় ফেরিতে থাকা শতাধিক যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে বালি থেকে লম্বক দ্বীপে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
ফেরিটিতে থাকা যাত্রী ও ক্রুদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। যাত্রীদের তালিকা অনুযায়ী, নৌযানটিতে অন্তত ১১৪ জন আরোহী ছিলেন। মাঝসমুদ্রে আগুন লাগার খবর পেয়ে নৌবাহিনীর একটি জাহাজসহ কয়েকটি উদ্ধারকারী নৌযান দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে নৌবাহিনীর জাহাজ ও আরেকটি ফেরিসহ অন্তত তিনটি নৌযানে করে যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি আকাশ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হয়।
উদ্ধার তৎপরতার বিষয়ে লম্বকের মাতারাম এলাকার অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান মুহাম্মদ হারিয়াদি জানান, ফেরিটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তবে সব যাত্রীকে যে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেই বিষয়টি ইতিমধ্যে নিশ্চিত করা গেছে। উদ্ধারকারী দল ফেরিটির কাছে গিয়ে ভেতরে আর কোনো যাত্রী দেখতে পায়নি। বর্তমানে তারা ওই জাহাজটির আশপাশে প্রয়োজনীয় উদ্ধার ও অনুসন্ধানকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও
মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ইন্দোনেশিয়ায় ফেরিতে আগুন লাগার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে গত সপ্তাহে জাভা দ্বীপের কাছে একটি ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজন প্রাণ হারান। এ ছাড়া গত মাসে সুলাওয়েসির দক্ষিণে সেলাইয়ার দ্বীপের কাছে ৭০ জনের বেশি যাত্রীবাহী একটি ফেরি ডুবে যাওয়ার ঘটনায় চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার সময় পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন নিখোঁজ ছিলেন। উল্লেখ্য, ১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় নৌপথে যাতায়াত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশটিতে প্রায়ই এমন মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।











