Long Popup (2)
সর্বশেষ

ইরানের মিত্রদের থেকে দ্বিমুখী হামলার আশঙ্কা করছে সৌদি আরব

Untitled 1 recoveredProbashircityWebPopupUpdate

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ইরাক ও ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবে সমন্বিত হামলা হতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে রিয়াদ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সৌদি আরবের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, এই হামলা যেকোনো মুহূর্তে হতে পারে। সম্ভাব্য এই হামলায় মূলত সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

ওই কর্মকর্তা জানান, এরই মধ্যে ইরাকের উত্তরাঞ্চল ও ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সরানোর তৎপরতা শনাক্ত করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এটি মূলত একটি বড় ধরনের সমন্বিত হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতিরই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে এবং নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় সৌদি আরব প্রয়োজনীয় সব ধরনের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সংঘাতের জেরে সৌদি আরব ক্রমশ বড় ধরনের হামলার ঝুঁকিতে পড়ছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে সৌদি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জন্য ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে যৌথভাবে ইরাকে হামলা চালিয়েছিল রিয়াদ। এরপর থেকেই ইরাকের সশস্ত্র মিলিশিয়ারা চরম প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই গত শুক্রবার পবিত্র মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা সুন্নি মুসলিম শক্তিগুলোর নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করার একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

সম্ভাব্য এই হামলার হুমকিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন ওই সৌদি কর্মকর্তা। কারণ, রিয়াদ বর্তমানে উত্তেজনা প্রশমন ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, চলমান এসব গঠনমূলক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে পুরোপুরি ভণ্ডুল করে দেওয়াই হতে পারে এই সম্ভাব্য হামলার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালুর বিষয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে, যা ওই অঞ্চলে বৃহত্তর শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে মনে করছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তারা।

এদিকে সম্ভাব্য হামলার এই চরম সতর্কতার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের এক হামলায় ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, আহতদের মধ্যে সাতজন সৌদি নাগরিক এবং বাকিরা ইয়েমেন, মিসর ও পাকিস্তানের নাগরিক। এর আগে গত মঙ্গলবার নাজরান বিমানবন্দরে হামলার দায়ও স্বীকার করেছিল হুথিরা। পাশাপাশি গত বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে হুথিদের আলাদা হামলায় সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের অন্তত ১৭ সেনা নিহত হয়েছেন। হুথিদের লোহিত সাগর অবরোধ এবং সৌদি আরবের ভেতরে এমন ধারাবাহিক হামলা রিয়াদের জ্বালানি রপ্তানি ও সার্বিক নিরাপত্তার জন্য এখন মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate