টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ এক সৌদিফেরত ব্যক্তিকে গভীর রাতে গ্রামের রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়ার অমানবিক অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। গত শনিবার রাতের এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরদিন সকালে বৃষ্টি শুরু হলে অসহায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন তাঁর ভাতিজি ইসমত আরা। বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্থায়নে এবং উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে তাঁর চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির নাম জামাল উদ্দিন। তিনি সখীপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে পৈতৃক ভিটামাটি বিক্রি করে জামাল উদ্দিন গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রী রিনা আক্তারের বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এরপর তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং দীর্ঘ ১২ বছর সেখানে কাজ করেন। কয়েক মাস আগে প্রবাসে অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছিলেন না।
আরও
জামাল উদ্দিনের ভাই আবদুল জলিল জানান, প্রবাসজীবনে উপার্জিত সব অর্থই তাঁর ভাই স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন। এমনকি ভাইয়ের প্রয়োজনে তিনি নিজেও তাঁকে চার লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন, যা এখনো ফেরত পাননি। তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রিনা আক্তার। তাঁর দাবি, কয়েক মাস আগেই তিনি জামাল উদ্দিনকে তালাক দিয়েছেন, তাই বর্তমানে তিনি তাঁর স্বামী নন।


এদিকে অমানবিক এই ঘটনার পর কালমেঘা গ্রামের বাসিন্দারা চাঁদা তুলে জামাল উদ্দিনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী এনাম হাসান জানান, বৃষ্টির কারণে অর্থ সংগ্রহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও তাঁকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, বিষয়টি পারিবারিক হলেও একজন অসুস্থ মানুষকে মানবিক সহায়তা দেওয়া জরুরি। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর চিকিৎসার জন্য সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হবে।











