সৌদি আরবের নির্ধারিত কোটার আওতায় বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর পবিত্র হজ পালনের সুযোগ থাকলেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য তা বরাবরই ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের হজে অংশ নিতে হলে প্রথমে দেশে ফিরতে হয়, এরপর বাংলাদেশ থেকে হজের উদ্দেশে যাত্রা করতে হয়। এতে প্রবাসীদের অতিরিক্ত সময় ও বিপুল অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি পোহাতে হয়। তবে এবার এই নিয়মের পরিবর্তন আসতে পারে। প্রবাসী নেতারা সরকার ও হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বিষয়টিকে বেশ ইতিবাচকভাবেই দেখছে।

আগামী বছরের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ-১ শাখা থেকে প্রবাসীদের জন্য জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে ই-হজ সিস্টেমে নিবন্ধনের বিস্তারিত নিয়মাবলি জানানো হয়েছে। প্রবাসীরা বাংলাদেশি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাব ও বৈধ আবাসনের নথি দিয়ে সরকারি বা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাক-নিবন্ধন করতে পারবেন। তবে প্রবাসীদের মূল আপত্তি দেশে ফিরে হজে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা নিয়ে। তাঁদের মতে, বাংলাদেশ সরকার এতদিন অযৌক্তিকভাবে প্রবাসীদের সরাসরি হজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে, অথচ সৌদি আরবের দিক থেকে এ বিষয়ে কোনো সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই।
আরও
বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি ও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মাওলানা আনিসুর রহমান জানান, প্রবাসীদের নিজ নিজ দেশ থেকে সরাসরি সৌদি আরবে গিয়ে হজ পালনে কোনো ধর্মীয় বা আইনি বাধা নেই। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দকৃত কোটার একটি বড় অংশ অনেক সময় অব্যবহৃত থেকে যায়। যেমন, একটি নির্দিষ্ট বছরে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার কোটার বিপরীতে মাত্র ৮৭ হাজার জন হজ পালন করেছিলেন। অন্যদিকে, ইউরোপ-আমেরিকায় বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি স্থানীয় হজ প্যাকেজের উচ্চমূল্য ও সীমিত কোটার কারণে নিবন্ধন করতে পারেন না। সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে অনেকেই বাংলাদেশি প্যাকেজে আগ্রহী। সরাসরি হজে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে জনপ্রতি চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় কমার পাশাপাশি অব্যবহৃত কোটা পূরণ করাও সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে কিছু প্রবাসী বৈধ উপায়ে যুক্তরাজ্য থেকে সরাসরি সৌদি আরবে গিয়ে বাংলাদেশি কাফেলার সঙ্গে হজ সম্পন্ন করেছেন বলেও তিনি দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন।
বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার জানিয়েছেন, প্রবাসীদের সরাসরি হজের সুযোগ চালুর বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী নীতিগতভাবে একমত এবং এ বছর থেকেই এটি কার্যকর করার তৎপরতা চলছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলামও বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ ও চিঠি দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। হজ অধিশাখার যুগ্মসচিব ড. মঞ্জুরুল হক জানান, সৌদি সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় হজ চুক্তির সময় এ বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা পাওয়া যাবে। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানে সৌদি আরবে বাংলাদেশ হজ অফিসের মাধ্যমে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে।










