ইরানে টানা ১৩ দিন ধরে চলা মার্কিন বিমান হামলা সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান উত্তেজনার মাঝে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য বাড়তি সময় দেওয়া এবং সার্বিক পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের লক্ষ্যেই গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এই নির্দেশনা দেন তিনি। এর ফলে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা মার্কিন সামরিক অভিযানের ধারায় আপাতত বিরতি এলো। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ওমানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জমা দেওয়া নির্দিষ্ট হামলার পরিকল্পনায় ট্রাম্প সই করলেও শুক্রবার তিনি তা থেকে বিরত থাকেন। ট্রাম্পের মতে, বড় ধরনের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে না জড়িয়ে বর্তমান সামরিক পদক্ষেপগুলোকে যৌক্তিক সীমার মধ্যে রাখা এবং আলোচনার পথ খোলা রাখাই এখন সবচেয়ে কার্যকর কৌশল। তবে এই বিরতি কত দিন স্থায়ী হবে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সরাসরি ইরানিদের সঙ্গে কথা বলছে এবং দিন যত যাচ্ছে, তারা বিষয়টি তত বেশি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আগাম ধারণা না থাকায় মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ও নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা চরম সতর্ক অবস্থানে ছিল।
এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য একটি নতুন কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছাতে তেহরানে ওমান ও ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আঞ্চলিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহান্তের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক রফাসূত্র তৈরি হতে পারে। ওমানের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত সেই চুক্তি মেনে নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই। তবে মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে, কূটনৈতিক চেষ্টা ব্যর্থ হলে কিংবা প্রয়োজনে অল্প সময়ের মধ্যে বড় আকারের পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরু করার জন্য সেনাবাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।










