সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য স্বাক্ষরিত বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেন, রিয়াদ আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিয়ে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই কেবল এই পারমাণবিক সমঝোতা চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে। যদিও গত বুধবার মার্কিন জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে যখন চুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন ইসরায়েল প্রসঙ্গ বা এমন কোনো শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়নি। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যে আব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, এই শর্তটিকে তারই ধারাবাহিক সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমানের স্বাক্ষরিত এই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা এখনও প্রকাশ করা হয়নি এবং এটি মার্কিন কংগ্রেসেরও অনুমোদন পায়নি। তবে ট্রাম্প আশ্বস্ত করেছেন, এই চুক্তির আওতায় সামরিক উদ্দেশ্যে স্বাধীনভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কোনো সুযোগ থাকবে না; এটি সম্পূর্ণভাবে বেসামরিক কর্মসূচির জন্যই নির্দিষ্ট। অন্যদিকে, চুক্তি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, এতে জাতিসংঘের কঠোরতম পরিদর্শন ব্যবস্থা বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়নি। বরং যৌথ সমীক্ষার ভিত্তিতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো খোদ সৌদি আরবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণের সুযোগ পেতে পারে। মার্কিন জ্বালানি বিভাগের মতে, এটি কয়েক দশকব্যাপী বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বের এক শক্তিশালী ভিত্তি গড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের এমন শর্তের বিপরীতে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অনড় অবস্থান ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রিয়াদ বরাবরই স্পষ্ট করে জানিয়ে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে দৃশ্যমান ও বাস্তবসম্মত কোনো অগ্রগতি না হলে তারা কোনোভাবেই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। রিয়াদের এই নীতিগত অবস্থানের কারণে ট্রাম্পের জুড়ে দেওয়া নতুন শর্ত চুক্তিটির ভবিষ্যৎকে কিছুটা জটিলতার মুখে ফেলে দিয়েছে। এর পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভাব্য বিস্তার নিয়ে বিশ্লেষকেরা যে প্রবল শঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন, চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের শর্তগুলোর কিছুটা শিথিলতা সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সব মিলিয়ে ফিলিস্তিন ইস্যুর সুরাহা ছাড়া মার্কিন-সৌদি এই পারমাণবিক চুক্তির চূড়ান্ত ও নির্বিঘ্ন বাস্তবায়ন বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।








