মহাবিপর্যয়ের রূপ নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপরিস্থিতি। বিশ্বজুড়ে যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্টতই নতুন বৈশ্বিক সংঘাতের অশনিসংকেত। সৌদি ও ইয়েমেনের হুতিদের দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও প্রক্সি যুদ্ধগুলো এখন প্রকাশ্য রূপ ধারণ করায় বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, পৃথিবী হয়তো ইতিমধ্যেই অলক্ষিতভাবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রবেশ করে ফেলেছে।
এরইমধ্যে চুক্তি লঙ্ঘন করে ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানও হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি; তেহরানের পক্ষ থেকে ওমান-কুয়েতসহ আরবদেশগুলোয় অভূতপূর্ব মাত্রায় পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে সেই আঘাতের জবাব দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতিকে চূড়ান্ত রূপ দিতে মস্কোর সক্রিয় অংশগ্রহণ এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়। ইরানের ভেতরে রাশিয়ার অত্যাধুনিক সামরিক বিমানের নিয়মিত আনাগোনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ক্রেমলিন তেহরানের সুরক্ষায় সরাসরি মাঠে নেমেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের প্রবল নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে রুশ যুদ্ধবিমানের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের আকাশকে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের উত্তাপে ভরিয়ে দিয়েছে। বিশ্বশক্তির এই প্রকাশ্য মেরুকরণ প্রমাণ করে যে, এটি আর কোনো বিচ্ছিন্ন দেশের লড়াই নয়, বরং বৈশ্বিক অক্ষশক্তির এক মহড়া।
আরও
চারপাশের এই ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থা, আধুনিক মারণাস্ত্রের অবাধ ব্যবহার এবং বিশ্বনেতাদের যুদ্ধংদেহী মনোভাব এই ধারণাই জোরালো করছে যে, ধ্বংসাত্মক তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা ইতিমধ্যেই বেজে উঠেছে, যার পরিণতি হতে পারে মানব সভ্যতার জন্য এক অপূরণীয় বিপর্যয়।









