কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় এনায়েতুর রহমান ওরফে বাহার (৩৫) নামের এক যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক প্রতিবেশী নারীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত ওই নারীর দাবি, এনায়েতুর রহমান তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করায় আত্মরক্ষার্থে তিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার একটি গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত এনায়েতুর রহমান এবং প্রতিবেশী প্রবাসী সুমন চৌধুরীর বাড়ি পাশাপাশি। কয়েক বছর আগে দুই পরিবারের মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল। প্রায় এক মাস আগে ছুটিতে দেশে এসে সুমন চৌধুরী তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে এনায়েতুর রহমানের অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে এনায়েতুর কিছুটা শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্থানীয়ভাবে সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। এরপর গত চার দিন আগে সুমন পুনরায় তাঁর কর্মস্থলে ফিরে যান।
নিহত এনায়েতুরের মা নেহারা বেগম জানান, তাঁর ছেলে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। দুই হাতের কবজি ও আঙুল ঠিকমতো কাজ না করায় তিনি স্বাভাবিকভাবে কাজকর্ম করতে পারতেন না। নেহারা বেগম অভিযোগ করেন, সকালে প্রতিবেশী ওই নারী তাঁর ছেলেকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে গলা কেটে হত্যা করেছেন। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরও
এ বিষয়ে লালমাই থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান জানান, নিহত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক নারীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তিনি দাবি করেছেন যে ধর্ষণের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে আত্মরক্ষার্থেই তিনি এনায়েতুরকে হত্যা করেছেন। তবে প্রকৃত ঘটনা কী, তা উদ্ঘাটনে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।








