কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাঁকে হাতেনাতে ধরে দড়ি দিয়ে বেঁধে গণধোলাই দেন। আজ সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব কাউয়ারচর এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
আটককৃত ওই ব্যক্তির নাম জাকির হোসেন। তিনি দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য এবং নিষিদ্ধঘোষিত স্থানীয় আওয়ামী যুবলীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল রোববার গভীর রাতে জাকির হোসেন পূর্ব কাউয়ারচর এলাকায় ওই প্রবাসীর বসতবাড়ির টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় ওই নারীর চিৎকারে বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে তাঁকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার একটি ভিডিও আজ সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, ইউপি সদস্য জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করার পাশাপাশি কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। গতকাল রাতে জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে তিনি ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং হত্যার হুমকি দেন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে তাঁকে রক্ষা করেন। ওই নারীর দাবি, জাকিরের বিরুদ্ধে খুন ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে; তিনি এই জঘন্য ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাকির হোসেন দাবি করেন, ওই নারীর স্বামী তাঁকে নিয়ে কিছু বলায় কথা বলতে রাতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁকে ডেকে নিয়ে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং ওই নারীর সঙ্গে তাঁর কোনো অনৈতিক সম্পর্ক নেই।
আরও
এ বিষয়ে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানান, নারীঘটিত কেলেঙ্কারির জেরে ওই ইউপি সদস্যকে পুলিশ নিয়ে গেছে বলে তাঁরা শুনেছেন। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে খুন ও মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে রৌমারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রাসেল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার হাতে আটক ইউপি সদস্যকে উদ্ধার করে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










