ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহতের ঘটনায় নয়াদিল্লির তীব্র প্রতিবাদের মুখেও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে ওয়াশিংটন। ভারতের গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের আরোপিত অবরোধ লঙ্ঘনের কোনো চেষ্টা বরদাশত করা হবে না এবং সব বাণিজ্যিক জাহাজকে অবশ্যই মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ মেনে চলতে হবে। গতকাল শনিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে এক ফোনালাপে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওয়াশিংটনের এই কঠোর বার্তা পৌঁছে দেন।
সাম্প্রতিক এই প্রাণহানির ঘটনার জেরে চলতি সপ্তাহে ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জ্যাসন মিকসকে দুবার তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে সাউথ ব্লক। প্রথমবার পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এমটি সেট্টেবেলো’ জাহাজে হামলার পর এবং কিছুদিন পর একই এলাকায় আরও ২০ জন ভারতীয় নাবিক বহনকারী আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তাঁকে তলব করা হয়। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেছে, জাহাজটি বারবার নির্দেশ অমান্য করে চলমান মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে ইরান থেকে অবৈধভাবে তেল পরিবহনের চেষ্টা করছিল। বারবার সতর্ক করার পরও ক্রুরা নির্দেশ অমান্য করায় যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালিয়ে সেটিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এস জয়শঙ্কর বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এমন প্রাণঘাতী হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য বা ন্যায্য নয়। রুবিওর সঙ্গে ফোনালাপেও তিনি ভারতের এই কঠোর প্রতিবাদের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বেসামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে এমন প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ ওই সংবেদনশীল অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে চরমভাবে হুমকির মুখে ফেলবে। ভবিষ্যতে বেসামরিক প্রাণহানি ঠেকাতে ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ারও জোর আহ্বান জানিয়েছে ভারত।
আরও
দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপের পর দেওয়া মার্কিন বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সব বাণিজ্যিক জাহাজকে মার্কিন নির্দেশনা মেনে চলার তাগিদ দেওয়া হয়। তবে ওই বিবৃতিতে নিহত ভারতীয়দের প্রতি কোনো ধরনের সমবেদনা বা অনুশোচনা না থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতীয় কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর। বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হয়েও যুক্তরাষ্ট্রের এমন অসংবেদনশীল আচরণের কড়া সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জাহাজ থামাতে বেসামরিক মানুষের ওপর প্রাণঘাতী হামলা ছাড়া কি আর কোনো বিকল্প ছিল না? এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচলকারী প্রায় প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজে ভারতীয় নাবিক থাকায় তাঁরা এখন মার্কিন হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।









