যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, চলমান বৈরী পরিস্থিতি ও অচলাবস্থার পরও যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে সম্পর্ক এখন বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। গতকাল বুধবার (৩ জুন) সম্প্রচারিত ‘পড ফোর্স ওয়ান’–এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক বিমান হামলার পর থেকে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ওই হামলায় তিনি আহত হয়েছেন এবং তাঁর বাবা প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মোজতবা খামেনি অবশ্যই সবকিছুর সঙ্গে জড়িত এবং তাঁর ধারণা, ইরানে অনেকেই তাঁকে সম্মান করেন।
মোজতবার দীর্ঘদিনের এই অন্তরাল জীবন শান্তি আলোচনাকেও বেশ জটিল করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে দূতের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হওয়ায় আলোচনা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, মোজতবার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ এখনো তাঁর হয়নি। বিভিন্ন গল্প যদি সত্যি হয়, তাহলে তিনি অনেক কিছু থেকেই নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন।
আরও
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, শোনা যাচ্ছে এখন চূড়ান্ত অনুমোদন তিনিই দেন। দীর্ঘদিন ধরেই এমনটা হয়ে আসছে। আগে তাঁর বাবা এই দায়িত্ব পালন করতেন, এখন তিনি করছেন। এটিকে একধরনের উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া বলা যায়। তবে দুই পক্ষের সম্পর্ক মোটামুটি ভালোই এগোচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মোজতবা খামেনির সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি অবশ্যই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান। পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে কোনো একসময় তাঁদের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অবশ্য মোজতবা খামেনিকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান এই অবস্থান তাঁর আগের বক্তব্যের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। এর আগে তিনি মোজতবাকে হালকা মানের নেতা এবং ইরান পরিচালনার জন্য অযোগ্য ব্যক্তি বলে মন্তব্য করেছিলেন। এ ছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেছিলেন, এসব খবর তাঁকে শুরু থেকেই বিব্রতকর অবস্থানে ফেলেছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের সূত্রমতে, গত মার্চ মাসে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন যে মোজতবা খামেনি সমকামী হতে পারেন—এমন একটি অপ্রমাণিত মূল্যায়ন তাঁদের কাছে রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, শৈশবের এক শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। তবে এ তথ্যের কোনো স্বাধীন বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ওই মূল্যায়নও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।









