Long Popup (2)
সর্বশেষ

রাশিয়ায় বাংলাদেশি ৩ যুবককে জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ

Image 295949ProbashircityWebPopupUpdate

উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে এবং সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে গত ৭ মে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের তিন যুবক। কথা ছিল সেখানে তাঁরা নির্মাণশ্রমিক বা কনস্ট্রাকশন ভিসায় কাজ করবেন। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁদের জোরপূর্বক দেশটির সামরিক কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতারণার শিকার হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে পড়া এই তিন যুবক হলেন গোপালপুর উপজেলার মো. আমিনুল ইসলাম (৩০), পবিত্র চন্দ্র (৩৫) ও নজরুল ইসলাম (৪০)। এই খবরে দেশে থাকা তাঁদের পরিবারে এখন চরম উদ্বেগ ও কান্নার রোল পড়েছে।

ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা জানান, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর মাত্র একবার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছিল। এরপর তাঁদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঈদের রাতে সুযোগ পেয়ে কৌশলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি আতঙ্কিত কণ্ঠে জানান, তাঁদের ইতিমধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হবে। অন্যদিকে, গত শুক্রবার রাতে নজরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী আছমা বেগমের শেষবারের মতো কথা হয়। সে সময় নজরুল জানান, তাঁকেসহ মোট ৩০ জন বাংলাদেশিকে ৫ জনের গ্রুপ করে ৬টি দলে ভাগ করে ইতিমধ্যে জোরপূর্বক যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অবস্থিত রিক্রুটিং এজেন্সি জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের মাধ্যমে কনস্ট্রাকশন ভিসায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন তাঁরা। বিদেশে যাওয়ার জন্য পরিবারগুলো নিজেদের শেষ সম্বল বিক্রি করার পাশাপাশি চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা এজেন্সিকে পরিশোধ করেছিল। অভিযোগ রয়েছে, জুলিয়া নামের এক রাশিয়ান নারীর মাধ্যমে ওই ৩০ জন বাংলাদেশিকে সেখানে পাঠানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হলরুমে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁদের ব্রিফিং দেওয়া হচ্ছে এবং সেখানে ওই নারীও উপস্থিত রয়েছেন। প্রতারণার শিকার আমিনুলের পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও তিন সন্তান; পবিত্র চন্দ্রের পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান এবং নজরুলের পরিবারে বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও চার সন্তান রয়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের এমন বিপদে দিশেহারা স্বজনেরা এখন সরকারের কাছে দ্রুত উদ্ধারের আকুতি জানাচ্ছেন।

এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির কার্যালয় বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে এজেন্সির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান তাঁদের আর্মিতে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেছেন, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে তাঁদের আর্মি থেকে ফিরিয়ে আনা হবে এবং এরপর তাঁরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। অন্যদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েলফেয়ার সেন্টারের দায়িত্বরত কর্মকর্তা সাকিব মাহমুদ জানিয়েছেন, রাশিয়ায় আটকে পড়া ওই ৩০ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধারের বিষয়ে সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এরই মধ্যে উচ্চ বেতন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণামূলকভাবে যুবকদের রাশিয়ায় পাঠানোর অভিযোগে গত সোমবার (১ জুন) তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলসহ জামানত বাজেয়াপ্ত করেছে মন্ত্রণালয়। অভিযুক্ত এই এজেন্সিগুলো হলো—আর এস ইন্টারন্যাশনাল, জাবাল-ই-নূর এবং টিএস ওভারসিস লিমিটেড।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate