ইসরায়েলি অবরোধ ও চলমান ধ্বংসযজ্ঞের কারণে টানা তৃতীয়বারের মতো কোরবানির পশু ছাড়াই পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপন করতে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনের গাজার বাসিন্দারা। অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় গবাদিপশু প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় এবারও কোরবানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি মন্ত্রণালয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
সারা বিশ্বের মুসলিমরা যখন ঈদুল আজহা উদ্যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, গাজাবাসীর মনে তখন বিন্দুমাত্র উৎসবের আমেজ নেই। একসময়ের ব্যস্ত কসাইখানাগুলো এখন পরিণত হয়েছে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়শিবিরে। কোরবানির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামও ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, যুদ্ধের আগে ঈদে গরু-ছাগল কোরবানি হতো, শিশুরা আনন্দে মেতে উঠত। কিন্তু এখন গাজায় ঈদের কোনো আমেজ নেই। আরেক বাসিন্দার আকুতি, ‘আমরা চাই মুসলিম বিশ্ব আমাদের জন্য পশু পাঠাক। আমাদের শিশুরা কেন এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে?’
যুদ্ধের আগে গাজায় প্রতিবছর কোরবানির জন্য প্রায় ২০ হাজার গরু ও ৪০ হাজার ভেড়া আমদানি করা হতো। কিন্তু বর্তমানে সেখানে সামান্য খাদ্যসহায়তা ছাড়া আর কোনো কিছুরই সরবরাহ নেই। গাজার কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বাহা আগা জানান, যুদ্ধের কারণে ইতিমধ্যে ৮০ হাজারের বেশি গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে। তা ছাড়া গাজার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা বর্তমানে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন ‘ইয়েলো জোন’–এর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে উপত্যকাটির অধিকাংশ খামার অবস্থিত। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলের টানা সামরিক অভিযানে এসব পশুর খামার, চিকিৎসাকেন্দ্র ও খাদ্যের গুদাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
আরও
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে গাজায় ত্রাণ ও নিত্যপণ্যের অবাধ প্রবেশের বারবার আহ্বান জানানো হলেও বর্তমানে সেখানে ত্রাণ সরবরাহ প্রায় এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে চরম এক মানবিক সংকটের মধ্যে আশ্রয়শিবিরগুলোতে মানবেতর জীবন যাপন করছে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। এ অবস্থায় টানা কয়েক বছর ধরে ঈদের ন্যূনতম আনন্দ থেকেও পুরোপুরি বঞ্চিত রয়ে যাচ্ছে সেখানকার শিশুরা।

![]jh](https://probashtime.net/wp-content/uploads/2026/05/jh.webp)








