ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ৯ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে। গত শনিবার দুপুরে উপজেলার তেলিকান্দা উত্তর পাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার ওই শিশুকে শনিবার রাতেই ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত প্রতিবেশী সহিদ মিয়া পলাতক রয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে শিশুটি নিজেদের বাড়ির আশপাশে খেলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী সহিদ মিয়া তাকে চিপস কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে কিছুটা দূরের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান এবং ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি কাউকে জানালে শিশুটিকে হত্যার হুমকিও দেন তিনি। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত নিজেই শিশুটিকে নদীতে গোসল করিয়ে বাড়ির সামনে রেখে যান। একপর্যায়ে শিশুটি অসুস্থ বোধ করলে সে তার পরিবারকে বিষয়টি খুলে বলে। এরপর স্বজনেরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাবা সৌদি আরবে প্রবাসী। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার মক্তব বিভাগে পড়াশোনা করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শিশুর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী জানান, শিশুটির প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে। চূড়ান্ত মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হবে।
আরও
এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ মাঠে নেমেছে। অভিযুক্ত সহিদ মিয়াকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক দলের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় পুলিশ নিজ উদ্যোগেই অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।








