হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য টোল ব্যবস্থা ঘিরে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমন্বয়ের দাবি করেছে তেহরান। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি মাস্কাট। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ১০ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশই এই পথ দিয়ে যাতায়াত করত। এখন এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনরায় চালুর শর্ত নিয়েই নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি প্রণালির দক্ষিণ দিকে ওমানের একটি বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড ‘মুসান্দাম’ অবস্থিত হওয়ায় অনিবার্যভাবেই এই সংকটে জড়িয়ে পড়েছে দেশটি।
সম্প্রতি ভারতে দেওয়া এক বক্তব্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থিত এবং এর মাঝখানে কোনো আন্তর্জাতিক জলসীমা নেই। এই যুক্তিতে প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে তেহরান নিবিড়ভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজকে নিবন্ধনের আওতায় আনার পাশাপাশি প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য প্রায় এক ডলার হারে ফি বা টোল বসানোর দাবিও তুলেছে ইরান। তবে এই প্রণালি ও প্রস্তাবিত ফি-কে ঘিরে এখনো নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি ওমান।
অন্যদিকে ইরানের এই টোল ব্যবস্থা ও নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর ঘোর বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল বা ফি ব্যবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ওমানও এই বিষয়ে তাদের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছে। হোয়াইট হাউসের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করবে। এমনকি এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটালে যুক্তরাষ্ট্র তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আরও
চলমান এই পরিস্থিতিতে ওমানের অবস্থান নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশটি একদিকে যেমন ভৌগোলিকভাবে ইরানের সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদারও। ফলে হরমুজ ইস্যুতে কার্যত উভয় পক্ষের প্রবল চাপের মুখে পড়েছে মাস্কাট। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হওয়ায় বর্তমানের এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইরানের প্রস্তাবিত নতুন টোল ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক আইন এবং নৌ চলাচলের অবাধ স্বাধীনতার বিষয়টিকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।









