Long Popup (2)
সর্বশেষ

প্রবাসীকে হত্যার পর টুকরো টুকরো করে কেটে ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা স্ত্রী

Shariatpur 1652026ProbashircityWebPopupUpdate

শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করে ফ্রিজে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। রোমহর্ষক এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী আসমা আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ। মাংস ফ্রিজে রাখতে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়দের সন্দেহের মুখে ধরা পড়েন তিনি। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসমা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নিহতের খণ্ডিত দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ওই ব্যক্তির নাম জিয়া সরদার। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। প্রায় আট বছর আগে মুঠোফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে আসমা আক্তারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। দুজনেরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তাঁরা। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে চরম কলহ চলছিল। এর জেরে গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ব্যাপক কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আসমা লোহার রড দিয়ে স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় সজোরে আঘাত করেন, এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

D4d5aabe479149f577f6a5843c244d68 6a07dae00adcd

হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে অত্যন্ত লোমহর্ষক পথ বেছে নেন আসমা। তিনি ধারালো ছুরি দিয়ে স্বামীর নিথর দেহটি কয়েক টুকরো করে মাংস ও হাড় আলাদা করে ফেলেন। এরপর হাড়গুলো একটি ড্রামে ভরে ওই বাসাতেই প্রায় তিন দিন লুকিয়ে রাখেন। পরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে বস্তাবন্দী হাড়গুলো বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। অন্যদিকে, বিচ্ছিন্ন করা মাংসগুলো শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকায় তাঁর পুরোনো একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণের চেষ্টা করেন তিনি।

মাংস থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসমাকে আটক করে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের কিছু খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। একই দিন বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকে নিহতের চার হাত-পা উদ্ধার করে পুলিশ।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহতের পরিবার। জিয়া সরদারের ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, তাঁর ভাই প্রবাসে থাকা অবস্থায় ওই নারীকে বিয়ে করেছিলেন। দেশে ফিরে তাঁরা আলাদা বাসাতেই থাকতেন। তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এ বিষয়ে সদর পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, অভিযুক্ত নারীকে আটকের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate