ইতালির ভেনিসে একই বাসায় সাবলেট থাকার সুযোগ নিয়ে ১৭ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তিন মাসের এক শিশুসন্তানের জননী ওই নারী ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে স্থানীয় পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইতালীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার স্বামীর সাময়িক অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে একই অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসকারী এক ব্যক্তি নবজাতকের সামনেই জোরপূর্বক এই জঘন্য ঘটনা ঘটায়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ইতালির পুলিশ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে এবং অভিযুক্তকে ধরতে জোর অভিযান অব্যাহত রেখেছে; যদিও এখন পর্যন্ত তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী নারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পর ভেনিসের কারাবিনিয়ারি (ইতালীয় পুলিশ) বাহিনী অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য মাঠে নামে। কারাবিনিয়ারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অত্যন্ত সংবেদনশীল এই ঘটনার তদন্ত সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রেখে পরিচালনা করা হচ্ছে। যেহেতু অপরাধটি একটি আবাসিক ভবনের চারদেয়ালের ভেতরে ঘটেছে, তাই প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে পুলিশকে বেশ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলের ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ নিবিড়ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে তদন্তকারী দল।
মর্মান্তিক এই ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে তার প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ইতালিতে যৌন সহিংসতা সংক্রান্ত ২০২৪ সালের হালনাগাদ স্বাস্থ্য প্রোটোকল অনুযায়ী, এ ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনায় জরুরি বিভাগ, স্ত্রীরোগ বিভাগ, ফরেনসিক মেডিসিন এবং সংক্রামক রোগ বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করে থাকে। ভুক্তভোগীর পরিচয়, চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র এবং অভিযোগের খুঁটিনাটি তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছে, যা তদন্তের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় বিবেচনা করা হচ্ছে।
আরও
এদিকে, ইতালিতে বসবাসরত এক প্রবাসী বাংলাদেশির সঙ্গে ঘটা এমন অমানবিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ প্রবাসী ও কমিউনিটি নেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য এই ঘটনার কঠোর ভাষায় নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন। তাঁরা ভুক্তভোগী তরুণী ও তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।










