মালয়েশিয়ার কেদাহ অঙ্গরাজ্যের সিক জেলার বেলান্তিকে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য স্থাপিত বিশেষ আদালতে বিভিন্ন অভিবাসন আইনের আওতায় ১২৬ জন বিদেশি নাগরিককে হাজির করা হয়েছে। বুধবার (৭ মে) অনুষ্ঠিত এই শুনানিতে অবৈধভাবে অবস্থান, বৈধ নথিপত্র না থাকা এবং ভিসার শর্ত ভঙ্গের দায়ে এসব অভিবাসীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। বিচারক ইয়েএ তুয়ান মাজদি বিন আবদুল হামিদের আদালতে এই মামলাগুলো পরিচালনা করেন টিপিপিআই প্রসিকিউটর ফারাহাফিদা বিনতি জাকারিয়া। শুনানিতে অভিযুক্তদের প্রত্যেককে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১০ থেকে ১৫ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত জরিমানা, অনাদায়ে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়া অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ১৫(১)(সি) অনুযায়ী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অতিরিক্ত সময় ধরে দেশটিতে অবস্থানের অভিযোগে ৫৯ জন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করা হয়। এই অভিযুক্তদের মধ্যে চীন, ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নাগরিকরা রয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার থেকে শুরু করে ১৫ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত পর্যন্ত বিপুল অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করেন। একই সঙ্গে জরিমানার এই অর্থ অনাদায়ে তাঁদের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, বৈধ কোনো ভ্রমণ নথি বা পাসপোর্ট ছাড়া মালয়েশিয়ায় প্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগে অভিবাসন আইনের ধারা ৬(১)(সি) অনুযায়ী চীন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পাঁচ নাগরিককে কঠোর সাজা দেওয়া হয়েছে। আদালত তাঁদের আট মাসের কারাদণ্ড এবং একটি করে বেত্রাঘাতের দণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া পৃথক আরেকটি শুনানিতে ভিজিট পাসের শর্ত ভঙ্গ করে দেশটিতে অবস্থান করার অভিযোগে অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩-এর রুল ৩৯(বি) অনুযায়ী আরও ৬২ জন বিদেশিকে অভিযুক্ত করা হয়। এই অপরাধের দায়ে আদালত তাঁদের প্রত্যেককে ৬০০ রিঙ্গিত করে জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে দুই মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন।
আরও
আদালত কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, ভিনদেশি ভাষায় কথা বলা বেশ কিছু অভিযুক্তের মামলার শুনানি উপযুক্ত দোভাষী সেবার অভাবে সাময়িকভাবে স্থগিত করে পরবর্তী তারিখের জন্য মুলতবি করা হয়েছে। এই বিচারিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে কেদাহ রাজ্য মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দেশের অভিবাসন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে এবং বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়ার যাবতীয় আইন ও বিধিনিষেধ মেনে চলা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান এবং পরবর্তী আইনি ও বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।










