অবৈধ বিদেশি কর্মীদের জন্য শর্ত সাপেক্ষে বৈধ হওয়ার এক নতুন ও সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে ইউরোপের দেশ রোমানিয়া । সম্প্রতি জারি করা এক সরকারি জরুরি অধ্যাদেশের (অধ্যাদেশ নং-৩২ ও অফিশিয়াল গেজেট নং-৩৩৫) মাধ্যমে এই বিশেষ সাধারণ ক্ষমা বা ‘অ্যামনেস্টি’ কর্মসূচির (অনুচ্ছেদ-৫২) সুবিধা চালু করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই সুখবর জানিয়েছে। দূতাবাসের মতে, রোমানিয়া সরকারের এই ইতিবাচক উদ্যোগের ফলে সেখানে কর্মসংস্থান হারিয়ে অবৈধ হয়ে পড়া বহু বাংলাদেশি কর্মী নতুন করে আইনি বৈধতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, মূলত যেসব বিদেশি কর্মী বৈধ ওয়ার্ক ভিসায় রোমানিয়ায় প্রবেশ করার পর নিয়োগ সংক্রান্ত নানা জটিলতায় পড়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ হয়ে গেছেন, তাঁরাই এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো কর্মী বৈধভাবে দেশটিতে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানি তাঁকে কাজ দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তিনি পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন কোনো নিয়োগকর্তা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়ে অবৈধ হয়ে পড়েন। এ ছাড়া অনেক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্মীর বেতন থেকে কর কেটে রাখলেও তা সরকারের কাছে জমা দেয় না কিংবা সময়মতো টিআরসি (টেম্পোরারি রেসিডেন্স কার্ড) আবেদন সম্পন্ন করে না। এমন পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ হয়ে পড়া কর্মীদের জন্য এই নতুন আইন পুনরায় বৈধ হওয়ার পথ খুলে দিয়েছে।
আরও


নতুন এই নির্দেশনার শর্ত অনুযায়ী, ইতিমধ্যে অবৈধ হয়ে যাওয়া কর্মীদের আইন কার্যকর হওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে রোমানিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করতে হবে। তবে এই আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য একজন কর্মীকে অবশ্যই একটি নতুন বৈধ নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি খুঁজে নিতে হবে, সেই প্রতিষ্ঠানের অধীনে নতুন করে ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে এবং এরপর টিআরসি কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে। বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নতুন এই আইনি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে, তাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রয়োজনে দূতাবাসের কনস্যুলার শাখার সরাসরি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


তবে রোমানিয়া সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, দেশটিতে অবস্থানরত সব অবৈধ অভিবাসী ঢালাওভাবে এই বৈধতার সুবিধা পাবেন না। যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ইমিগ্রেশন পুলিশের ‘রিটার্ন ডিসিশন’ বা দেশত্যাগের চূড়ান্ত নির্দেশ জারি হয়েছে, কিংবা যাঁরা অবৈধ পথে সীমান্ত পেরিয়ে রোমানিয়ায় প্রবেশ করেছেন, তাঁরা কোনোভাবেই এই বিশেষ কর্মসূচির আওতাভুক্ত হবেন না। বুখারেস্টের বাংলাদেশ দূতাবাস আরও জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে প্রতিটি আবেদনের চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের একমাত্র এখতিয়ার রোমানিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতেই থাকবে এবং শর্ত সাপেক্ষে বৈধ হওয়ার এই বিশেষ সুযোগ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।











