ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে টানা হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েল। চারদিকে স্বজন হারানোর কান্না ও ধ্বংসস্তূপের মাঝেই গাজাবাসীর জন্য সামান্য খুশির উপলক্ষ্য নিয়ে এসেছে ৩০০ যুগলের এক বর্ণাঢ্য গণবিয়ে। গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) মধ্য গাজায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এই বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আর্থিক ও সার্বিক সহায়তায় এই মহতী উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, এই গণবিয়ের অনুষ্ঠানে নবদম্পতিদের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মী এবং সাধারণ জনতা উপস্থিত ছিলেন। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ আনন্দঘন এই আয়োজন প্রত্যক্ষ করতে জড়ো হয়েছিলেন। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয় এবং এরপর একে একে ৩০০ যুগলের বিয়ে পড়ানো হয়। পুরো আয়োজনে ফিলিস্তিনি সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে আমিরাত ও ফিলিস্তিনের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।
আরও


বিশাল এই গণবিয়ের কর্মসূচির আয়োজন করা হয় মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘গালান্ত নাইট ৩’ (Gallant Knight 3) প্রোগ্রামের আওতায়। যারা দীর্ঘদিন ধরে অর্থাভাবে বিয়ে করতে পারছিলেন না, তাদের জন্যই এই বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। গালফ নিউজ আরও জানিয়েছে, এই গণবিয়ের জন্য কয়েক হাজার গাজাবাসী আবেদন করেছিলেন। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে ৩০০ যুগলকে নির্বাচন করা হয়।


আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কার্যক্রমে মূলত আগে বিয়ে করেননি এমন অবিবাহিত এবং আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল যুগলদের সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই উপত্যকায় নতুন জীবন শুরু করার জন্য বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি নবদম্পতিদের আরও নানাভাবে সহায়তা করা হয়েছে। নতুন সংসার সাজাতে তাদের দেওয়া হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের উপহার, যা এই দুঃসময়ে তাদের জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ও আনন্দ বয়ে এনেছে।








