পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত নয়টার দিকে উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের বাজার এলাকায় পঞ্চায়েত বাড়ির ব্রিজের কাছে এ হামলা হয়। এতে দলের অন্তত পাঁচজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হামলায় আহত ব্যক্তিরা হলেন পত্তাশী ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম ফকির (৫৫), স্বেচ্ছাসেবক দলের ইউনিয়ন সভাপতি জাহিদ হোসেন (৩৮), ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাছির উদ্দীন ফকির (৫০), মো. নাহিদ হোসেন (১৮) ও নাইম হোসেন (২৮)। স্থানীয় লোকজন জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে হঠাৎ চিৎকার শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং আহত ব্যক্তিদের রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তাঁদের মধ্যে দুজন অচেতন ছিলেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাঁদের পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তাঁরা সেখানেই চিকিৎসাধীন।
হামলার বিষয়ে আহত জাহিদ হোসেন ও নাছির উদ্দীন ফকির অভিযোগ করে বলেন, পত্তাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন টুকু, তাঁর ছেলে রায়হান এবং টুকুর ভাই যুবলীগ নেতা আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল সংঘবদ্ধভাবে এই হামলা চালায়। আহত ব্যক্তিদের দাবি, তাঁরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার কারণেই ক্ষোভ থেকে এই প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে।
আরও
তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দীন টুকু। তাঁর দাবি, তিনি মূলত দুই পক্ষের মারামারি থামাতে গিয়ে নিজেই আহত হয়েছেন এবং এখন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে। এ বিষয়ে ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. শামীম হাওলাদার জানান, আহত ব্যক্তিরা বর্তমানে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।











