যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) অঙ্গরাজ্যটির রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত আইনসভায় এ–সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয়েছে। আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে বিশ্বজুড়ে নিজের নামে অসংখ্য বহুতল ভবন নির্মাণ করে পরিচিতি পাওয়া ট্রাম্প এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনাতেও নিজের নাম যুক্ত করার নজিরবিহীন এক প্রচারণায় নেমেছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবর অনুযায়ী, ফ্লোরিডার পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম বদলে নতুন নাম প্রস্তাব করা হয়েছে ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট’। বালুকাময় সৈকত ও বিলাসবহুল প্রাসাদের জন্য পরিচিত পাম বিচ শহরটি মূলত ট্রাম্পের নিজস্ব বাসভবন ‘মার-এ-লাগো’র খুব কাছেই অবস্থিত। অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর রন ডিস্যান্টিস খুব শিগগিরই এই বিলে সই করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একসময় ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক হলেও ডিস্যান্টিস এখন এই পদক্ষেপের অন্যতম সমর্থক। তবে নাম পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
এফএএর চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে এটি হবে ট্রাম্পের নামে নামকরণ করা সর্বশেষ কোনো বড় স্থাপনা। এর আগে গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনের বিখ্যাত শিল্পকলা কেন্দ্র ‘কেনেডি সেন্টার’–এর পরিচালনা পর্ষদ এর নাম বদলে ‘ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’ করার পক্ষে ভোট দিয়েছিল। উল্লেখ্য, এই পরিচালনা পর্ষদটি ট্রাম্প নিজেই গঠন করেছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্কের পেন স্টেশন এবং ওয়াশিংটনের ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নামও নিজের নামে করতে চেয়েছিলেন, যদিও তখন তাঁর সেই প্রচেষ্টাগুলো সফল হয়নি।
আরও
স্থাপনার নামকরণের পাশাপাশি ট্রাম্পের ছবি সংবলিত মুদ্রার প্রচলন নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট বা অর্থ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে যে ট্রাম্পের ছবি সংবলিত এক ডলারের একটি স্মারক মুদ্রার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। তবে দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী, ক্ষমতায় থাকা কোনো ব্যক্তি বা জীবিত কোনো প্রেসিডেন্টের ছবি সরকারি মুদ্রায় প্রদর্শনের ওপর সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে এই মুদ্রার চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে আইনি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।











