ইরানের 3টি ট্যাংকার জব্দ করেছে ভারত। আরব সাগরে ইরান সংশ্লিষ্ট তিনটি তেল ট্যাংকার জব্দ করে ভারতীয় কোস্ট গার্ড। আন্তর্জাতিক তেল পাচার চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভারতীয় কোস্ট গার্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার মুম্বাইয়ের পশ্চিমে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনটি জাহাজ আটক করা হয়। এই চক্রটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় সমুদ্রের মাঝখানে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে কম দামে তেল সংগ্রহ করে তা মোটর ট্যাংকারে সরিয়ে দিত। উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর প্রাপ্য শুল্ক ফাঁকি দিতে এমন কাজ করে আসছিল তারা।
আরও
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে চালানো তল্লাশি, ইলেকট্রনিক তথ্য যাচাই এবং নাবিকদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে একটি বৈশ্বিক তেল পাচার নেটওয়ার্কের সঙ্গে জাহাজগুলোর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জব্দ করা জাহাজগুলোকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য মুম্বাই বন্দরের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
On 06 Feb 26, @IndiaCoastGuard busted an International oil-smuggling racket in a meticulously coordinated sea–air operation. The syndicate exploited mid-sea transfers in international waters to move cheap oil from conflict ridden regions to motor tankers, evading duties owed to… pic.twitter.com/erJ31U4xyH
— Indian Coast Guard (@IndiaCoastGuard) February 7, 2026
তেল পরিবহন নজরদারি সংস্থা ট্যাংকারট্র্যাকার্স জানিয়েছে, আটক জাহাজ তিনটি হলো ইরানের পতাকাবাহী স্টেলার রুবি, চিলটার্ন এবং অ্যাসফল্ট স্টার। ইরান ইন্টারন্যাশনাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তেল ও গ্যাস বাণিজ্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) এই তিনটি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ইরানি তেল পরিবহনে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়।
ওমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ আলোচনা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শনিবার ওয়াশিংটন ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করতে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। এতে তুরস্ক, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকাবাহী ১৪টি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরান এমন যুদ্ধে প্রস্তুত, যার ফলে পুরো অঞ্চল এবং সব মার্কিন ঘাঁটিকে অন্তর্ভুক্ত করবে।












