মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসী পাচার ঠেকাতে অভিযান চালিয়ে একটি ‘সেফ হাউস’ থেকে সাত বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। রাজধানী কুয়ালালামপুরের তামান মালুরি এলাকার একটি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পরিচালিত অভিযানে প্রথমে পাঁচজন পুরুষকে আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা অবৈধভাবে পাচার হয়ে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছেন এবং সাময়িকভাবে ওই ‘সেফ হাউসে’ অবস্থান করছিলেন।
একই অভিযানে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানায় জেআইএম। তাদের একজন ওই সেফ হাউসের ব্যবস্থাপক এবং অন্যজন পাচারচক্রের পরিবহন (ট্রান্সপোর্টার) হিসেবে কাজ করছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ধরনের সেফ হাউস অভিবাসীদের গোপনে রাখা, স্থানান্তর ও ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হয়।
আরও
ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জানান, আটক ব্যক্তিদের পাসপোর্ট যাচাই করে দেখা গেছে, সেগুলোতে মালয়েশিয়ায় বৈধ প্রবেশের কোনো অনুমোদিত সিল বা প্রবেশের ছাপ নেই। ফলে তাদের অবৈধভাবে দেশে ঢোকার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যে ‘সিন্ডিকেট ইকবাল’ নামে একটি পাচারচক্রের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত মিলেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি কেলান্তানেও ওই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
আটকদের পরবর্তী তদন্তের জন্য পুত্রজায়ায় ইমিগ্রেশন বিভাগের সদর দপ্তরে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারবিরোধী আইন ২০০৭ (এটিপিসম আইন ৬৭০) এবং ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ (আইন ১৫৫)-এর আওতায় তদন্ত চলছে। দাতুক জাকারিয়া শাবান সতর্ক করে বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়, নিয়োগ বা যেকোনোভাবে সহায়তা করলে—সিন্ডিকেট সদস্য, নিয়োগকর্তা কিংবা সম্পত্তির মালিক—সবার বিরুদ্ধেই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












