শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে একটি অ্যাম্বুলেন্স দুই দফা রাস্তায় আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় নিহত হন জমশেদ আলী ঢালী (৬০)। তিনি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা।
রোগীর স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে অসুস্থ অবস্থায় জমশেদ আলী ঢালীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এ সময় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হলেও রোগী তোলার পর চালক ভাড়া বাড়ানোর দাবি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় স্বজনরা অন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
ঢাকা যাওয়ার পথে গাগ্রীজোড়া এলাকায় স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কয়েকজন সদস্য গাড়িটির গতিরোধ করে প্রায় ৩০ মিনিট আটকে রাখেন এবং রোগী নামিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে গাড়িটি ছাড়া পেলেও কিছু দূর যাওয়ার পর জামতলা এলাকায় আবারও একইভাবে প্রায় ৪০ মিনিট অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে রাখা হয়। এই দীর্ঘ বিলম্বের মধ্যেই রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা যান। পরে হাসপাতালের চিকিৎসক তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
আরও
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধার কারণেই ঢাকায় পৌঁছাতে দেরি হয়েছে এবং এর ফলেই প্রাণ হারিয়েছেন জমশেদ আলী ঢালী। অ্যাম্বুলেন্স চালকও একই অভিযোগ করে জানান, ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাদের গাড়ি আটকে রাখা হয় এবং চাবি কেড়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। শরীয়তপুর জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, যারা এই অমানবিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এর আগেও একই ধরনের ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার কারণে এক নবজাতকের মৃত্যুর নজির রয়েছে, যা প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।









