মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ অন্তত ১৫০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। ‘অপারেশন কুটিপ’ নামের এই অভিযানে সেলায়াং এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক এবং জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে মোট ৩২৬ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়, যার মধ্যে প্রথম ধাপে ৭৯ জনকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন।
অভিযানের সময় গ্রেপ্তার এড়াতে অনেক প্রবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ ভবনের ওপর তলা থেকে ধারালো বস্তু নিক্ষেপ করেন, কেউ ছাদে উঠে যান, আবার কেউ পানির ট্যাঙ্কের ভেতরে লুকানোর চেষ্টা করেন বলে জানান কর্মকর্তারা। আটক ব্যক্তিরা মূলত নিরাপত্তা প্রহরী, খাবারের দোকানের সহকারী, লন্ড্রি কর্মী, মুদি দোকানের কর্মচারী ও নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
আরও
কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব প্রবাসী অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও সংকীর্ণ পরিবেশে বসবাস করছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে তিন কক্ষের একটি ফ্ল্যাটে পাঁচ থেকে ছয়জন গাদাগাদি করে থাকতেন, যার জন্য মাসিক প্রায় ৬০০ রিঙ্গিত ভাড়া দিতে হতো। পরে জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে দ্বিতীয় দফা অভিযানে আরও ৭১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ইন্দোনেশিয়ান।
লোকমান এফেন্দি রামলি স্পষ্ট করে বলেন, অবৈধ অভিবাসন দমনে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং কোনো ধরনের আপস করা হবে না। শুধু অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের নয়, তাদের নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনের আওতায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।











