মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবৈধ পতিতালয় ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। রবিবার দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে জালান পেতালিং, জালান ইম্বি ও জালান পুডুর ১৩টি স্থাপনায় একযোগে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ মোট ১৩৯ জন বিদেশিকে আটক করা হয়। অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, মোট ২০৫ জনের নথি যাচাইয়ের পর বিভিন্ন অপরাধে তাদের আটক করা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টর বাসরি ওসমান বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১১২ জন নারী ও ২৭ জন পুরুষ। তারা বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক। এছাড়া এসব স্থাপনার পরিচালনা ও তদারকিতে জড়িত অভিযোগে ২০ জন মালয়েশিয়ান পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা কেয়ারটেকার বা ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে কাজ করত।
তদন্তে উঠে এসেছে, এসব অবৈধ পতিতালয় দিনে ২৪ ঘণ্টা দুই শিফটে পরিচালিত হতো। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর পর্যন্ত চলত কার্যক্রম। গ্রাহকদের জন্য কোনো অগ্রিম বুকিংয়ের প্রয়োজন হতো না, এবং প্রতিবারের জন্য ন্যূনতম ৬০ রিঙ্গিত ফি নির্ধারণ ছিল। ধরা পড়া এড়াতে সংশ্লিষ্ট নারীদের আলাদা জায়গায় রাখা হতো, আর ভবনের ভেতরে দেয়াল তুলে তৈরি করা হয়েছিল ছোট ছোট গোপন কক্ষ।
আরও
নিউ স্ট্রেইট টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, আটক ১১২ নারীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৩ জনই বাংলাদেশি। এছাড়া একজন ভিয়েতনামি নারীকে বহনকারী একটি গাড়ি পালানোর চেষ্টা করলে কর্মকর্তারা সেটি ধাওয়া করে থামান। পুরো অভিযানটি কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে।
অভিযান শেষে সব বিদেশিকে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন ডিপো, বেরানাং এবং সেমেনয়িহ ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।










