সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) অগ্রসর পর্যায়ের পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত এক নারী মাত্র তিন দিনের মধ্যে সফল চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আবুধাবির বুরজিল মেডিকেল সিটির চিকিৎসকেরা রোবট-সহায়ক সার্জারি ও হাইপারথারমিক ইন্ট্রাপেরিটোনিয়াল কেমোথেরাপি (এইচআইপিইসি) পদ্ধতির সমন্বয়ে বিরল এই সাফল্য অর্জন করেন। ৪০ বছর বয়সী ওই রোগী দীর্ঘদিন ধরে পেটব্যথায় ভুগছিলেন এবং পরীক্ষায় পাকস্থলীতে ক্যানসার ধরা পড়ে, যা পেটের আস্তরণেও ছড়িয়ে পড়ছিল।
পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর চিকিৎসকেরা দ্রুত মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম গঠন করে উন্নত চিকিৎসা শুরু করেন। জেনারেল সার্জারি ও অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. মোহাম্মদ আদিলের নেতৃত্বে ছয় ঘণ্টাব্যাপী সাইটোরিডাকটিভ সার্জারি করা হয়, যাতে শরীর থেকে দৃশ্যমান সব ক্যানসার অপসারণ করা হয়। এরপর দা ভিঞ্চি রোবট প্রযুক্তির সাহায্যে পাকস্থলীর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পৃথকভাবে অপসারণ করা হয়, যা অপারেশনে নিখুঁততা ও ঝুঁকি কমায়।
সার্জারির পর চিকিৎসকেরা রোগীর পেটের ভেতর সরাসরি এইচআইপিইসি নামের উষ্ণ কেমোথেরাপি প্রয়োগ করেন। এই কেমোথেরাপি অবশিষ্ট, চোখে দেখা যায় না এমন ক্ষুদ্র ক্যানসার কোষও ধ্বংস করতে সক্ষম। চিকিৎসক দলের দাবি, রোবটিক সার্জারি ও এইচআইপিইসি—এই দুই উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয় রোগ নিরাময়ের হার বাড়িয়েছে, ব্যথা কমিয়েছে এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করেছে।
আরও
প্রফেসর হুমাইদ আল শামসি, ডা. আমিন এম. আবিয়াদ, ডা. জোয়াকিন পিকাজো ইয়েস্তে, ডা. নরমিন সাঈদ হাসানিনসহ পুরো সার্জারি ও নার্সিং টিম রোগীর চিকিৎসায় অংশ নেন। চিকিৎসকেরা জানান, এত বড় ধরনের ক্যানসার সার্জারির পর মাত্র তিন দিনে রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা এবং আমিরাতে ক্যানসার চিকিৎসায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
সুস্থ হয়ে ওঠা নারী বলেন, চিকিৎসার দ্রুত অগ্রগতি ও মেডিকেল টিমের মানসিক সহায়তা তাকে নতুন জীবন দিয়েছে। তিনি বলেন, “ভাবিনি এত দ্রুত সুস্থ হব। মনে হচ্ছে আবার নতুন করে জীবন শুরু করলাম।” একই অবস্থা যারা মোকাবিলা করছেন তাদের উদ্দেশে তার পরামর্শ—সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া এবং আশা না হারানোই সবচেয়ে বড় শক্তি।












