মালয়েশিয়ায় প্রগ্রেসিভ ওয়েজ পলিসি (পিডব্লিউপি) বা প্রগতিশীল মজুরি নীতির আওতায় এ বছর নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩২ হাজার শ্রমিকের বেতন সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। নীতির আওতায় অংশগ্রহণকারী নিয়োগদাতাদের উৎসাহ দিতে এখন পর্যন্ত মোট ৩৪ মিলিয়ন রিঙ্গিত প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এ নীতি ধীরে ধীরে দেশের শ্রমবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে বলে সরকার জানিয়েছে।

মানবসম্পদমন্ত্রী স্টিভেন সিম সংসদে জানান, প্রবর্তনের পর থেকে প্রায় তিন হাজার নিয়োগদাতা এ নীতিতে অংশ নিয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বছরে অন্তত ২১ ঘণ্টা দক্ষতা প্রশিক্ষণ গ্রহণ বা রিকগনিশন অব প্রাইর লার্নিং (আরপিএল) প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের শর্ত পূরণ করলে প্রণোদনার জন্য যোগ্য হচ্ছেন।
আরও
মন্ত্রী বলেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শ্রমিকদের গড় প্রারম্ভিক বেতন ১৬ শতাংশ বা ৩০০ রিঙ্গিত বৃদ্ধি পেয়ে ১,৯০০ থেকে বেড়ে ২,২০০ রিঙ্গিতে পৌঁছেছে। একইভাবে, ১২ মাসের বেশি সময় ধরে চাকরিতে থাকা কর্মীদের ন্যূনতম বেতন ১৩ শতাংশ বা ২৯০ রিঙ্গিত বাড়িয়ে ২,২০০ থেকে ২,৪৯০ রিঙ্গিতে উন্নীত করা হয়েছে, যা শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজার নিয়োগদাতা পিডব্লিউপি সিস্টেমে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন, যার মধ্যে চার হাজারের মতো প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণের আবেদন করেছে। মন্ত্রী আরও জানান, সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থা পারকেসোর অধীনে মেলাকা, পেরাক এবং তেরেঙ্গানুতে অবস্থিত পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে মোট ১,৬৩০ রোগীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। পেরাকের মেরু এলাকায় নতুন পুনর্বাসন কেন্দ্রটি গত ২২ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কার্যক্রম শুরু করেছে, এবং এখন পর্যন্ত ২৩২ জন রোগী সেখানে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সংসদ অধিবেশনে অনুমোদিত লিনদুং ২৪/৭ সুরক্ষা স্কিমের ফলে এখন কর্মীরা কর্মঘণ্টার বাইরে থাকলেও দুর্ঘটনা ও ঝুঁকির ক্ষেত্রে সুরক্ষা পাবেন। মন্ত্রণালয় বলছে, এ স্কিম দেশের প্রায় এক কোটি আনুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিককে উপকার দেবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রগতিশীল মজুরি নীতি শুধু শ্রমিকদের আয় বাড়াচ্ছে না, বরং দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি করছে।











