পাকিস্তানের পর এবার ইরানেও স্বর্ণের বিশাল মজুত আবিষ্কার হয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশে অবস্থিত শাদান স্বর্ণখনিতে পাওয়া এ মজুতকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আবিষ্কারগুলোর একটি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। সোমবার স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শিল্প, খনি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নতুন স্বর্ণ মজুতের সত্যতা ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, শাদান খনিতে নতুন করে আবিষ্কৃত মজুতের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৭.৯৫ মিলিয়ন টন অক্সাইড স্বর্ণ আকরিক এবং ৫৩.১ মিলিয়ন টন সালফাইড স্বর্ণ আকরিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলনামূলক সহজে উত্তোলনযোগ্য অক্সাইড আকরিক ইরানের খনিশিল্পে বড় ধরনের সুবিধা এনে দিতে পারে। নতুন আবিষ্কারের ফলে শাদান খনির মোট স্বর্ণ মজুত উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
ইরান কখনোই দেশের জাতীয় স্বর্ণ মজুদের সঠিক পরিমাণ প্রকাশ করেনি। তবে নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলা ও অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাপকভাবে স্বর্ণ কেনার দিকে ঝুঁকেছে। গভর্নর মোহাম্মদ রেজা ফারজিন সম্প্রতি জানান, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক স্বর্ণ ক্রয়কারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইরান ছিল শীর্ষ পাঁচের একটি।
আরও
বর্তমানে ইরানে সক্রিয় রয়েছে ১৫টি স্বর্ণখনি, যার মধ্যে উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলের জারশোরান খনি সবচেয়ে বড়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ এবং ইসরায়েল–ইরান উত্তেজনার ফলে দেশটির অর্থনীতি চাপে রয়েছে। এ অবস্থায় ডলারের বিপরীতে রিয়ালের অব্যাহত অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে সাধারণ ইরানিরা স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন। সোমবার খোলা বাজারে এক ডলারের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার রিয়াল।
সম্প্রতি পাকিস্তানেও বড় আকারের স্বর্ণ মজুত আবিষ্কারের খবর এসেছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের তারবেলা এলাকায় পাওয়া মজুতের অর্থমূল্য প্রায় ৬৩৬ বিলিয়ন ডলার বলে দাবি করেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন। দুই দেশের এই ধারাবাহিক আবিষ্কার দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে খনিজ সম্ভাবনার নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।










